পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে বরিশাল কুষ্টিয়ায় আতংক

বিএনপির ডাকা আজকের হরতালের সমর্থনে গতকাল মিছিল ও সমাবেশ করতে গেলে বরিশাল ও কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। দিনভর ওই দুই জেলায় বিরাজ করে আতঙ্ক। দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। যান চলাচলও ছিল বন্ধ। কুষ্টিয়ায় গ্রেফতার হয়েছেন আট জন। ইত্তেফাক অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : বরিশাল অফিস : ১৮ দলের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে গতকাল বিকালে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ হয়েছে। দুই ঘণ্টাব্যাপী সংষর্ষে পুলিশ ২৫ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ১৮ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে এই সংখ্যা আরো বেশি হবে। বিকাল ৫টা পর্যন্ত সদর রোডে দোকানপাট ও যান চলাচল বন্ধ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল ৩টায় জেলা বিএনপি নগরীর দক্ষিণ দিক থেকে অশ্বনীকুমার হলের দিকে রওনা হয়। বিবির পুকুরের কাছে পৌঁছলে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। এ নিয়ে সংর্ঘষের সূত্রপাত হয়। জেলা বিএনপির সঙ্গে সংর্ঘষ চলাকালে মহানগর বিএনপি নগরীর উত্তর দিক থেকে মিছিল নিয়ে অভিরুচী সিনেমা হল পর্যন্ত পৌঁছলে তাদের সঙ্গে সেখানে থাকা পুলিশের সংর্ঘষ শুরু হয়। সদর রোডের দুই প্রান্তে বিএনপির দুই গ্রুপ অবস্থান নিলে পুলিশ টাউন হল এলাকায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিএনপি নেতা-কর্মীরা উভয় দিক থেকে পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশ উভয় গ্রুপকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারসেল ও গুলি বর্ষণ করতে থাকে। একই সাথে চলে লাঠিপেটা। সংর্ঘষের সময় সদর রোডের সকল দোকানপাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশ ও বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ কাটপট্টি রোড, ফকিরবাড়ি, চকবাজার ও লাইনরোড এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পুরো এলাকায় এসময় আতঙ্ক বিরাজ করছিলো। পুলিশের পিটুনি খেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ২০/২৫ জন বিএনপি সমর্থককে সোহেল চত্বর এলাকায় বিএম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা শুভ সেনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মীরা আটক করে আওয়ামী লীগ অফিসে নিয়ে যায়। পিটিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। মহানগর বিএনপির সাথে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের সংর্ঘষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিনা উস্কানিতে পুলিশ হামলা চালিয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আতিকুর রহমান মিয়া জানান, বিবদমান বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘাত থামাতে গিয়েই পুলিশের সাথে বিএনপি নেতা-কর্মীদের অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়া : গতকাল বিকালে কুষ্টিয়া বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মািছিল শেষে বড় বাজার রেল গেট চত্বরে সমাবেশ চলাকালে পুলিশ বাধা দিলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ ৫০/৬০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বিএনপি ও ছাত্রদলের আট নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বড় বাজার এলাকার রেল গেট চত্বরে ব্যারিকেড দিয়ে সমাবেশ করার অভিযোগে পুলিশ চলমান সমাবেশে বাধা দিলে উত্তেজিত দলীয় নেতা-কর্মীরা পুলিশের উপর চড়াও হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। সংর্ঘষের সময় পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ করলে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও পুলিশের ওপর পাথর ছুঁড়তে থাকে। দুই পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষ বেঁধে গেলে পুলিশ শর্টগানের ফাঁকা গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ শুরু করে। এঘটনায় দুই পুলিশসহ কমপক্ষে ২০-২৫ জন আহত হয়। এছাড়া পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পোড়দহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ, ছাত্রদল নেতা তুহিন, বাদশা, রনি ও রানাসহ ৮ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। সংঘর্ষের সময় পুলিশের ফাঁকা গুলি, টিয়ারসেল নিক্ষেপের ফলে শহরময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বড় বাজারসহ শহরের প্রধান সড়কসহ প্রায় দুই-আড়াই হাজার দোকান পাট বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে সন্ধ্যার পর দোকান পাট খোলে। পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে সমাবেশ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির বিষয়ে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে বিএনপি কর্মীদের আক্রমণের ফলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ :ময়মনসিংহ : সোমবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ শহরের রামবাবু রোডে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় হরতাল সমর্থনকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও দোকানপাট ভাঙচুর করে। পুলিশ শতাধিক টিয়ারসেল নিক্ষেপসহ ব্যাপক লাটিচার্জ করে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। সাবেক এমপিসহ আহত ১০ :সিলেট অফিস : বিকালে বিএনপি হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করলে নগরীর চৌহাট্টায় পুলিশ বাধা দেয়। এসময় বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিমসহ ১০ জন আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকা থেকে ৫ বিএনপি কর্মীকে আটক করেছে।