জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
আনন্দ ভ্রমণে কুমিল্লার ময়নামতিতে
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:০০
দিন যায় আবার দিন ফিরে আসে কিন্তু কিছু দিন থাকে ব্যতিক্রম। তেমনি একটি ব্যতিক্রম দিন উপভোগ করলাম আমরা একঝাঁক তরুণ সাংবাদিক। দিনটি ছিলো ১৬ নভেম্বর অন্য রকম একটি দিন। ওই দিন আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি থেকে কুমিল্লার ময়নামতিতে আনন্দ ভ্রমণে যাই। ভ্রমণের দিন সকাল ৭টার দিকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বাসটি ছাড়ে। সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সোলাইমান সালমান, সাধারণ সম্পাদক জসীম রেজা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এফএম শরীফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলামসহ আমরা ৩৫জন তরুণ সাংবাদিক এ ভ্রমণে যাই। পথে অনাকাঙ্ক্ষিত জ্যাম থাকার কারণে ১০টায় পৌঁছার কথা থাকলেও আমরা পৌঁছেছি দুপুর ২টায়। তবে জ্যামে পড়লে আমাদের অস্বস্তি লাগেনি কারণ বাসের ভিতরে গান, কৌতুক আর আনন্দের মধ্যে সবাই ব্যস্ত ছিলো। কুমিল্লায় প্রথমে আমরা কুমিল্লা বার্ডে প্রবেশ করি। সেখানে ভিআইপি ক্যান্টিনে আমরা দুপুরের লাঞ্চ সেরে নিই।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ট্রেজারার অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়া স্যারের সহযোগিতায় সেখানে আগে থেকেই আমাদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছিলো। লাঞ্চ সেরে আমরা বার্ডের ভিতরে ঘুরে বেড়াই। সুন্দর-পরিপাটি ভবনগুলো এবং সারি সারি ফুলের বাগান আমাদের সবাইকে মুগ্ধ করে। আমরা বার্ডের সুন্দর সু-সজ্জিত দৃশ্য দেখে এতোটাই মুগ্ধ হয়েছিলাম যে সবাই যেন অজানা এক স্বর্গরাজ্যে এসে পৌঁছেছি। হাসি আনন্দের মাঝে চলতে থাকে ডিজিটাল ক্যামরার ফ্লাস। একের পর এক ছবি তুলে যাচ্ছেন আমাদের আফতাবউদ্দিন শাহাদাত ভাই। কিছু সময় বার্ডে কাটানোর পর আমরা চলে যাই কুমিল্লার শালবন বিহার ও লালমাই পাহাড়ে। সেখানে পুরো বিকালটা আমরা কাটাই। বিকেলে শালবন বিহারের ভিতরে সারি সারি ফুলের গাছ আর সবুজ ঘাসের মধ্যে খেলা করে বিকেলের সূর্যটা। এ যেন এক ধারণের অনুভূতির সৃষ্টি করে আমাদের মাঝে। সিনিয়ার-জুনিয়ার সব ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে দলবেঁধে আমরা ছোটা-ছুটি করি বৌদ্ধ বিহারের উপর। সেই মুহূর্তে জগতের সব আনন্দ যেন আমাদের মাঝে এসে হাজির হয়েছিলো।
কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ স্থানটি অন্যরকম একটি সুন্দর এলাকা। এখানে রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ব্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা পলিটেকনিক কলেজ, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ, বার্ড এবং পাশেই রয়েছে কুমিল্লা সেনানিবাস। আমরা শালবন বিহার ঘুরে ময়নামতি জাদুঘর ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরে সন্ধ্যার দিকে কুমিল্লা শহরে দিকে ছুটি। শহরে গিয়ে প্রথমে আমরা ধর্মসাগরের পাড়ে যাই। সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর আমরা চলে যাই মনোহরপুরের বিখ্যাত রসমালাইর দোকান ‘মাতৃ ভাণ্ডরে’। সেখান থেকে রসমালাই কিনে শুরু হয় রসমালাই খাওয়ার প্রতিযোগিতা। সবাই আনলিমিটেড সরমালাই খাই। পরে রাত ৮টার দিকে আমাদের ভ্রমণ শেষ করে ঢাকার পথে রওয়ানা হই। হাসি আনন্দ কি না ছিলো এ ভ্রমণে? সবই ছিলো এ ভ্রমণে। যার কারণে ভুলতে চাইলেও কেউ ভুলতে পারবে না এ দিনটি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির ইতিহাস থেকে কেউ দিনটিকে মুছে দিতে পারবে না।