কবির নিবেদন

পদ্মা মেঘনা যমুনা নদীর রূপালী রেখার মাঝে, আঁকা ছিল ছবি সোনার বাঙলা নানা ফসলের সাজে। রঙের রেখার বিচিত্র ছবি, দেখে না মিটিত আশ, ঋতুরা তাহারে নব নব রূপে সাজাইত বার মাস। সে বাঙলা আজি বক্ষে ধরিয়া দগ্ধ গ্রামের মালা, রহিয়া রহিয়া শিহরিয়া উঠে উগারি আগুন জ্বালা। দস্যু সেনারা মারণ-অস্ত্রে বধি ছেলেদের তার, সোনার বাঙলা বিস্তৃত এক শ্মশান কবরাগার। বনে জঙ্গলে লুণ্ঠিত গৃহে কাঁদে শত নারী-নর, কোথায় যাইয়া মিলিবে তাদের পুন আশ্রয়-ঘর! প্লাবনের চেয়ে— মারিভয় চেয়ে শতগুণ ভয়াবহ, নরঘাতীদের লেলিয়ে দিতেছে ইয়াহিয়া অহরহ। প্রতিদিন এরা নরহত্যার যে কাহিনী এঁকে যায়, তৈমুরলং নাদির যা দেখে শিহরিত লজ্জায়। তোমাদের কোলে আছে ছেলেমেয়ে, শপথ তাদের লাগে, স্বামী-পুত লয়ে সুখ-গৃহ মাঝে আছ যারা অনুরাগে; দেশ-দেশান্তে দয়া ধর্মের শপথ মানবতার, তোমরা আসিয়া ভাঙ এ নিঠুর এজিদের কারাগার। প্রতি মুহূর্তে শিশু মার কোলে মরিছে বুলেট ঘায়, প্রতি মুহূর্তে শত অসহায় দলিত দস্যু পায়। তাদের দীর্ঘ নিশ্বাসে ভরি উড়ানু পত্রখানি, এই আশা লয়ে তোমাদের থেকে পাব আশ্বাস-বাণী। ঢাকা: ২৭শে মার্চ, ৭১