কবিতা
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৩০
একাত্তরের লড়াই
শাহাবুদ্দীন নাগরী
বাতাস ছিলো আগুন আগুন
দুয়ার ছিলো খোলা
সাত কোটি লোক চমকে ওঠে
লাগলো ঝড়ের দোলা।
পোড়ামাটির গন্ধ আসে
নদীর জলে রক্ত ভাসে
পঁটিশে মার্চ লড়াই শুরু
যার যা ছিলো হাতে,
তাই নিয়ে সব নামলো জয়ে
কঠিন কালো রাতে।
চতুর্দিকে পড়লো সাড়া,
জাগলো মানুষ জাগলো পাড়া,
লেজগুটিয়েও পার পায় না
পাঞ্জাবি খানসেনা,
মায়ের মতো দেশের কাছে
অনেক আছে দেনা।
ডিসেম্বরের ষোলো
দেশটা স্বাধীন হোলো।
----
বিজয়-দিন
আসলাম সানী
কাদের ত্যাগের এই মাটিতে
করি বসবাস
কাদের ঘরে থাকি, কাদের
করি উপহাস?
সেই শহীদের স্মরি এসো
আজকে বিজয়-দিন
বাংলাদেশের পতাকাতে
শুধি তাদের ঋণ।
---
জন্মস্বাধীন আমি
ফারুক নওয়াজ
নেই তো কোনো মানা আমার
নেইতো কোনো বাধা,
ইচ্ছে হলেই কাঁপিয়ে হাওয়া
আমার গলাসাধা।
মুক্ত মাঠে নাটাই হাতে
দিই উড়িয়ে ঘুড়ি-
ঘুড়ির মতো আমিও তখন
পাগলা হাওয়ায় উড়ি।
আমি তো নই বন্দী কারো
আমি স্বাধীন ছেলে;
দেশ করেছি মুক্ত আমি
যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলে।
কণ্ঠে আমার জয়বাংলা
আকাশ কাঁপায় সুর,
চোখে আমার বিজলি ঝিলিক
বুকে সমুদ্দুর।
আমি হলাম জন্মস্বাধীন
নিষেধ-বাধাহীন
লাখ শহীদের কাছে আমার
মুক্ত হওয়ার ঋণ।
---
বিজয়ের গান
আবেদীন জনী
বিজয় দিনের সোনা রোদে
রাঙাই আমার প্রাণ,
নতুন নতুন স্বপ্ন আঁকি
গাই বিজয়ের গান।
যখন আমি যে কাজ করি
বিজয় থাকে সঙ্গে,
জীবনপথে রয় জড়িয়ে
বিজয় নানা রঙ্গে।
---
সুখের পরশ
কাজী কেয়া
সকাল বেলা আলোর খেলা—
ফুলের বনে ফুলের মেলা
প্রজাপতির রঙিন ডানায়
আলোর ঝিলিমিলি,
পাতায় পাতায় খুশির আমেজ
হাওয়ার ছিলিবিলি।
গাইছে পাখি মধুর সুরে
যায় ভেসে তা অনেক দূরে
দূরের নদী উছলে ওঠে
ঢেউয়ের কোলাহলে
মেঘের ছায়া রোদের মায়া
সুখের পরশ জলে।
---
স্বাধীন স্বদেশ
মনিরুজ্জামান পলাশ
দীর্ঘ আঁধার রাত্রি পেরিয়ে
উঠলো ভোরের সূর্য লাল
ছুটলো সুরের মূর্ছনাগুলো
হয়ে আনন্দে টালমাটাল।
ফুলের কলিরা ফুটলো হেসে
পাখিরা গাইলো নতুন গান
নতুন শপথে সকল প্রাণে
জেগে উঠলো ঐকতান।
স্বাধীন স্বদেশ এ মাটি আমার
লাল সবুজের পতাকা এই
লাখো শহীদের রক্তে পাওয়া
যার তুলনা কোথাও নেই।
---
সবুজ মাঠে লাল
আলম তালুকদার
শিশুর কাছে স্বাধীনতা মায়ের উদার কোল
ঢুলি তোমার স্বাধীনতা টাক ডুমাডুম ঢোল।
শিশু তোমার স্বাধীনতা যখন তখন হাসি
রাখাল তোমার স্বাধীনতা উদাস করা বাঁশি
যুবক তোমার স্বাধীনতা নতুন কিছু চাই
বাতাস তোমার স্বাধীনতা অলসতা নাই।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সবুজ মাঠে লাল
সামনে চলা নদীর চলা কুসুম ফোটার কাল।
----
আমার বাংলাদেশ
আবুল হোসেন আজাদ
বিজয় মানে একটি নতুন রাঙা আলোর ভোর,
খুলে যাওয়া অন্ধকারের বন্ধ খাঁচার দোর।
বিজয় মানে উদম হাওয়া ধান ফসলের মাঠ
গাঁয়ের বাড়ীর পুকুর পাড়ের শান বাঁধানো ঘাটে।
----
আমরা আছি জেগে
অঞ্জন মেহেদী
তোর যে ছেলে যুদ্ধে গিয়ে
আর ফেরেনি ঘরে,
অসীম মায়ায় তোর বুকে মা
বৃষ্টি ফোঁটা ঝরে।
তোর সে ছেলে আনল কিনে
এই পতাকার হাসি,
আনল কিনে মুক্ত আকাশ
স্বপ্ন রাশি রাশি।
প্রাণের মায়া ছিন্ন করে
করল কঠিন পণ,
এই লড়াইয়ে জিততে হবে
আসুক না মরণ!
শিশির পড়া মিষ্টি রোদে
যখন হাসে ভোর
আমরা জেগে লক্ষ তরুণ
ভয় কেন মা তোর?
---
একাত্তরের ছড়া
বাশারাত হাফেজ
সদস্য নম্বর: ৩০৮৭
একাত্তরে পাকসেনারা
যুদ্ধ করে লয়।
যুদ্ধ করে তরুণ দল
জয় বাংলা কয়।
মায়ের দোয়ায় শত্রু মারে
শত্রুসেনা ক্ষয়।
বন্দি হলো পাকসেনারা
রাজাকারের ভয়।
----
আসবি খোকন কবে?
মিতুল সাইফ
ঘুমিয়ে থাকো দূরের আকাশ
ঘুমিয়ে থাকো নদী,
আমার চোখে ঘুম নামে না
খোকন আসে যদি!
সেই যে খোকন হারিয়ে গেল
একাত্তরের রাতে,
আর এলো না লাল সবুজের
সেই পতাকা হাতে।
আসবি সোনা কখন কবে
মার কোলেতে ফিরে?
মেঘনা নদীর তীরে আমার
পদ্মা নদীর তীরে।
----
এমন দেশ
ইউসুফ আল আজাদ
কোথায় পাবে এমন দেশ
এমন শীতল ছায়া,
কোথায় পাবে ভাইয়ের আদর
মায়ের স্নেহ-মায়া।
কোথায় পাবে এমন দেশ
সবুজ ধানের মাঠ,
কোথায় পাবে জলে ভরা
শাপলা বিলের ঘাট।
কোথায় পাবে এমন রূপ
এমন পরিবেশ,
গানে ভরা আকুল করা
সোনার বাংলাদেশ।
---\
স্বাধীন দেশ
সরদার আবুল হাসান
একাত্তরে পঁচিশে মার্চ
হঠাত্ গভীর রাতে
পশুর বেশে পাক-হানাদার
নিধন খেলায় মাতে।
পাখির মত মানুষ মারে
লাশের পরে লাশ
হায়না শেয়াল কাক শকুনের
পৈশাচিক উল্লাস।
বাংলা মায়ের বীর ছেলেরা
অস্ত্র নিয়ে হাতে
পাক-পশুদের খতম করে
নিত্য দিবস রাতে।
--
রক্ত নিশান
গিয়াস উদ্দিন রূপম
স্বাধীনতা রক্ত নিশান
শক্ত হাতে ধরা
টকটকে লাল সূর্য পেতে
বন্ধ নড়াচড়া।
স্বাধীনতা বজ্র মুঠি
গর্জে কপাট খোলা
ভয়-ভীতি আর ভুল শাসনের
শেকড় টেনে তোলা।
স্বাধীনতা দৃপ্ত শপথ
ক্ষিপ্ত পায়ে চলা
শুভ্র সরল সত্য কথা
সত্ সাহসে বলা।