রফতানি আয় :পূরণ হচ্ছে না লক্ষ্যমাত্রা

একের পর এক মাস চলে যাচ্ছে। কিন্তু পূরণ হচ্ছে না রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা। অন্যদিকে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধিও আশানুরূপভাবে হচ্ছে না। চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রফতানি আয়ের তথ্য বিশ্লেষণে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রতিমাসের শুরুর দিকে তার আগের মাসের রফতানি তথ্য প্রকাশ করে। হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এক হাজার ৬৪ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার পরিমাণের পণ্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত থাকলেও এ সময়ে এক হাজার ১৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। যা রফতানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চার দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। আর গত ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রফতানি হয়েছিল ৯৭০ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের পণ্য। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি আয় বেড়েছে মাত্র চার দশমিক ৩৬ শতাংশ। এদিকে গত অর্থবছরের পুরো সময়ে (জুলাই-জুন) দুই হাজার ৪৩০ কোটি ১৯ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছিল। সাধারণত আগের অর্থবছরে যে পরিমাণ রফতানি হয় তার চেয়ে বেশি পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়। চলতি অর্থবছর সাড়ে ১৫ শতাংশ প্রবদ্ধি রেখে দুই হাজার ৮শ’ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে ইপিবি। এদিকে একক মাস হিসেবে গত নভেম্বর মাসে আগের বছরের নভেম্বর মাসের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ কম রফতানি হয়েছে। গত নভেম্বরে ১৯৯ কোটি ১০ লাখ ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রফতানি হয়েছে ১৭৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পণ্য। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ১৫৯ কোটি ১২ লাখ ডলারের পণ্য। রফতানি বিশ্লেষকরা বলছেন, সাড়ে ১৫ শতাংশ রফতানি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রায় থাকলেও অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে আগের অর্থবছরের তুলনায় মাত্র চার দশমিক ৩৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। অর্থবছরের আর বাকি আছে মাত্র সাত মাস। ফলে চলতি বছর রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে তারা সংশয় প্রকাশ করেছেন। এ জন্য বাংলাদেশের রফতানির প্রধান গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকায় মন্দা পরিস্থিতির কারণে সেখানে পণ্যের চাহিদা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না বাড়াকে দায়ী করেছেন। রফতানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, আমাদের রফতানির প্রধান গন্তব্য ইউরোপ ও আমেরিকায় মন্দা পরিস্থিতি চলায় সেখানে চাহিদা কমছে। ২০০৮ সালের মন্দার পর তারা আবার একই পরিস্থিতির মুখোমুখি। এ সব দেশের ক্রেতারা অর্ডার কমিয়ে দিয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে তারা অনেক কম দামে পণ্য কিনতে চাচ্ছে। এর উপর দেশে রফতানিমুখী শিল্প উদ্যোক্তারা গ্যাস-বিদ্যুত্ সংকট, উচ্চ সুদ হার, অবকাঠামো সমস্যাসহ নানামুখী সমস্যায় রয়েছেন। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এ কারণে সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এসব কারণে রফতানি আয় কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে বছর শেষে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা সম্পূর্ণ পূরণ না হলেও কাছাকাছি যাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, রফতানি আয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে দেশীয় উদ্যোক্তাদের সমস্যাগুলো গভীর মনযোগের সাথে বিবেচনা করতে হবে। সমস্যা সমাধানে সরকারকে আরো আন্তরিক হতে হবে। এদিকে চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে ইপিবি পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, আয়ের প্রধান নিয়ামক আয় তৈরি পোশাক রফতানিতে কাঙ্ক্ষিত না হওয়া এবং বেশির ভাগ পণ্য থেকেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আয় না আসায় রফতানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। ওভেন পোশাক রফতানি গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরে পাঁচ মাসে এক দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে এ মাসের জন্য যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তার চেয়ে পাঁচ দশমিক ৪৭ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে। আলোচ্য সময়ে ওভেন পোশাক ৪১৫ কোটি ৫৯ লাখ ডলার রফতানি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৯২ কোটি ৮৩ লাখ ডলার রফতানি হয়েছে। নিট পোশাক রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও গত বছরের পাঁচ মাসের তুলনায় মাত্র এক দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে ৪০৬ কোটি ৬৯ লাখ ডলার রফতানি হয়েছে। আলোচ্য সময়ে যে সব পণ্য থেকে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি সে তালিকায় রয়েছে, হিমায়িত খাদ্য, চা, ফলমূল, সিমেন্ট, লবণ ও পাথর, কেমিক্যাল পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, রাবার, চামড়া, কাঠ ও কাঠজাত পণ্য, কাঁচা পাট, বিশেষায়িত টেক্সটাইল, টেরি টাওয়েল, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য, জাহাজ ও কম্পিউটার সামগ্রী।