বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাচ্ছে এক মুক্তিযোদ্ধার নাম

স্বাধীনতা যুদ্ধের এক মহান সৈনিক হবিগঞ্জ জেলার কৃতি সন্তান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুর রব। ১৯৭৫ সালে ১৪ নভেম্বর ৫৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তাকে হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর তীরে উমেদনগর গ্রামে দাফন করা হয়। এই মহান মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতি সংরক্ষণে কোন স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাচ্ছে তার নাম। গত ১৪ নভেম্বর এই মহান মুক্তিযোদ্ধার ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী অনেকটা নিরবেই অতিক্রান্ত হয়। নাম মাত্র দু’একটি সংগঠন দিনটি পালনের জন্য কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করলেও তা অনেকটা দায়সারার মত। ঐ দিন দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগও তেমন কোন কর্মসূচি গ্রহণ করেনি। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম চিফ অব স্টাফ, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে জেনারেল এম.এ.জি ওসমানীর ঘনিষ্ঠ সহচর এবং সংসদ সদস্য। চিরকুমার এই স্বাধীনতা সংগ্রামী ১৯১৯ সালে বানিয়াচং উপজেলার খাগাউড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৪ সালে সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভের পর ২য় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে বার্মা, মালয়, সুমাত্রা, জাভা এবং পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময়ে কাশ্মীর সীমান্তে যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে জেনারেল ওসমানীর হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে মেশিনগানের গুলি বর্ষিত হলে তার সঙ্গী মেজর জেনারেল আব্দুর রব গুরুতরভাবে আহত হন। চরম বিপজ্জনক পরিস্থিতি ও বিপত্তির মুখে দায়িত্ব পালনে অসাধারণ শৌর্যবির্যের জন্য সরকার তাকে “বীরোত্তম” খেতাব প্রদান করেন। ১৯৭২ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ পদে বহাল ছিলেন। অবসর গ্রহণ তালিকা সংশোধনের পর তাকে অবৈতনিক মেজর জেনারেল পদমর্যাদা দান করা হয়।