কালের সাক্ষী

মেহেরপুরের বামুন্দি কাচারী বাড়ি ধ্বংসের পথে

বিট্রিশ বেনিয়াদের নির্মম অত্যাচার ও নিপীড়ন এবং নির্যাতনের সাক্ষী মেহেরপুরের বামুন্দি কাচারী বাড়ি। সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে এটি ধ্বংস হতে চলেছে। সংস্কার করলে এটিও হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটক কেন্দ্র। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের আগে কুখ্যাত নীলকর জেমসহীলের পতনের পর কলকাতার বিখ্যাত জমিদার বটকৃষ্ণ রায় চৌধুরী অত্র এলাকার ইজারা গ্রহণ করেন। চলতে থাকে তার জমিদারী। এসকল কার্যক্রমের জন্য বামন্দী কাচারীবাড়ী নির্ধারণ করা হয়। এখানে রয়েছে সুরক্ষিত শয়ন কক্ষ, নাচ ঘর, কয়েদখানা এবং মৃত্যুকূপ। প্রচলিত আছে জমিদারের খাজনা বা কর দিতে অপারগতা প্রকাশকারীদেরকে নির্মম নির্যাতন শেষে মৃত্যুকূপে নিক্ষেপ করা হত। জমিদারের নায়েব গোমস্তাদের কুদৃষ্টি থেকে রেহাই পেতনা এলাকার সুন্দরী রমনীরাও। তাদেরকে ধরে এনে ভোগ শেষে হত্যা কিংবা পঙ্গু করে দেয়া হত। আবার অনেক বাইজি হিসেবে রাখা হত। কেউ এর প্রতিবাদ করলেও তারও হত নিশ্চিত মৃত্যু। জমিদার বটকৃঞ্চ বাবুর কাছ থেকে কুষ্টিয়ার খেমেরদিয়াড়ের বাবুরা ওই জমিদারী ক্রয় সূত্রে মালিক হন। দেশ বিভাগ পর্যন্ত তারা জমিদারী পরিচালনা করেন। দেশ বিভাগের পরে কাচারী বাড়িটির দু’টি কক্ষে কাচারি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সে ধারামতে বর্তমানে বামুন্দি ইউপি ভূমি অফিসের কার্যক্রম চলছে ওই কাচারী বাড়ি থেকেই। এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি ইতিহাসের সাক্ষি কাচারি বাড়িটি সংস্কার আর সংরক্ষণ করে এটি পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা করা হোক।