স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জনসভা হয় যশোরে

আর ক’দিন পরেই মহাসমারোহে উদযাপিত হবে বাংলাদেশের ৪৩তম বিজয় দিবস। বিজয় দিবস পালনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে সমগ্র জাতি। ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গৌরবময় অনন্য একদিন ধারণ করে আছে যশোর। এই দিনে শত্রুমুক্ত যশোর টাউন হল ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশের প্রথম জনসভা। এ জনসভায় সেদিন উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদসহ আওয়ামী লীগ নেতা ফণী ভূষণ মজুমদার, গণপরিষদ সদস্য যশোরের এডভোকেট রওশন আলী ও মাগুরার সোহরাব হোসেন, প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য যশোরের এডভোকেট মোশাররফ হোসেন, তবিবর রহমান সরদার, ঝিনাইদহের মঈনুদ্দীন মিয়াজী প্রমুখ। বিএলএফ উপপ্রধান রবিউল আলম ও মুক্তিযোদ্ধা অশোক রায় ইত্তেফাককে জানান, ৬ ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্তানি সেনারা ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে পালিয়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর দলবীর সিংয়ের নেতৃত্বে মিত্রবাহিনী ক্যান্টনমেন্টের দখল নেয়। ঐদিনই কলকাতায় অবস্থিত প্রবাসী সরকার ওয়ালিউল ইসলামকে যশোরের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ, নূরে আলম জিকু, শাহ হাদীউজ্জামান ও অশোক রায় নবনিযুক্ত ডিসিকে সাথে নিয়ে চৌগাছার মসিলা সীমান্ত দিয়ে যশোর শহরে এসে পৌঁছান। তাদের রিসিভ করেন রবিউল আলম ও রাজেক জাহাঙ্গীর। এরপর জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধারা ওই জনসভার আয়োজন করেন। ঐদিনের জনসভায় জহির রায়হান, এম. আর আখতার মুকুল, লন্ডন টেলিগ্রাফের পিটার গিল, নিউইয়র্ক টাইমসের সিডনি সানবার্গ, আকাশবানীর উপেন তরফদার, বাল্টিমোর সান, ওয়াশিংটন পোস্টসহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। দুনিয়ার সেরা সব সংবাদ মাধ্যমে ওই রাতেই সেই খবর প্রচারিত হয়। সেদিন ইয়াসিকা ৬৩৫ ক্যামেরায় ঐতিহাসিক এই মুহূর্তটি ধারণ করেন কুষ্টিয়ার মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ রায়হান। ১৫ সেপ্টেম্বর আবদুল হামিদ রায়হান বাংলাদেশ ভলেন্টিয়ার সার্ভিস কোর (বি.ভি.এস.সি)-এর আলোকচিত্রী হিসেবে যোগ দিয়ে ইতিহাসকে ধারণের অনন্য নজির স্থাপন করেন।