জামিন নামঞ্জুর, মির্জা ফখরুল কারাগারে
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১২
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রিমান্ডে নিতে পুলিশের আবেদন এবং তার জামিনের জন্য স্বপক্ষের আইনজীবীদের আবেদন -উভয়টি নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে ঢাকা সিএমএম আদালত। দুই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৭ দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ওই আদেশ দেয় আদালত। পল্টন থানা এলাকায় গাড়ী ভাংচুর ও বোমা বিষ্ফোরণের মামলায় ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মাদ আলী হোসেইন এবং শেরেবাংলা নগর থানার বিস্ফোরক আইনের মামলায় ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।
রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য ডিবি অফিস থেকে বেলা ৪টায় ফখরুলকে সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। প্রিজনভ্যানে সিএমএম আদালতে আনার পর প্রথমে তাকে থানাহাজতে নেয়া হয়। এরপর হাজতখানা থেকে র্যাব ও পুলিশের নিরাপত্তায় সিএমএম আদালতের তৃতীয় তলার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মাদ আলী হোসেইনের এজলাসে ৪টা ১০ মিনিটে ওঠানো হয়। এজলাসে আনার পর তার আইনজীবীরা তাকে আইনজীবীদের সামনের বেঞ্চে বসতে দেন। কিন্তু আদালতে উপস্থিত রাষ্ট্রপক্ষের এবং আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা ফখরুল ইসলামকে ওই এজলাসের কাঁঠগড়ায় ওঠানোর জন্য হৈচৈ শুরু করেন। ওই অবস্থায় বেলা ৪টা ১৭ মিনিটে বিচারক এজলাসে ওঠেন। বিএনপির আইনজীবীরা মির্জা ফখরুলকে আইনজীবীদের বেঞ্চিতে বসতে দেয়ার অনুমতি চান। কিন্তু এতে আপত্তি জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের এবং আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা তাকে কাঁঠগড়ায় ওঠানোর জন্য আবারও হৈচৈ শুরু করেন। এ অবস্থায় বিচারক ওই কাঁঠগড়ায় তাকে পাঠানোর জন্য বিএনপির আইজীবীদের বলেন। বিচারকের নির্দেশের পর তাকে কাঁঠগড়ায় ঢুকিয়ে একটি চেয়ারে বসতে দেয়া হয়।
এরপর শুরু হয় পল্টন থানার মামলার শুনানি, প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষের ঢাকা মহানগর পিপি আব্দুল্লাহ আবু ও অতিরিক্ত পিপি শাহআলম তালুকদার রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানিতে বলেন, অবরোধ কর্মসূচির নামে উক্ত আসামির নেতৃত্বে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার আগে মানুষকে গাড়ী বের করতেও নিষেধ করেছেন। তার ঘোষণার জের ধরে গত ৯ ডিসেম্বর সকাল ৭টায় কাকরাইলের কর্ণফুলী মোটর্সের সামনে দিয়ে যাত্রাবাড়ী মাতুয়াইলগামী ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের একটি ময়লাবাহী গাড়ী যাবার সময় সেটি তার নেতৃত্বে পোঁড়ানো হয়। ওই ঘটনায় তার সঙ্গে আর কে কে ছিলেন তা জানার জন্য তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন অনুযায়ী ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করছি।
এরপর আসামিপক্ষে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, খোরশেদ আলম, বোরহান উদ্দিন, ইকবাল হোসেন, ওমর ফারুক ফারুকীসহ প্রমুখ শুনানি করেন।
শুনানিতে রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশে প্রধান বিরোধী দলের মহাসচিব। তিনি কোথাও গেলে তার পেছনে সব সময় দেশের সকল মিডিয়া লেগে থাকে। তার মতো মানুষ ২০০/২৫০ জন লোক নিয়ে সকাল ৭টায় সিটি কর্পোরেশনে ময়লার গাড়ী ভাংচুর করবেন তা একটি মিডিয়ার চোখেও পড়ল না। ওইদিন প্রতি মোড়ে মোড়ে পুলিশ ছিল, তারাও দেখলো না। তার হার্টে রিং পারানো আছে। প্রতি সপ্তাহে চেকআপ করাতে হয়। অন্যদিকে, মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এ মিথ্যা মামলায় রিমান্ডে নেয়ার কিছু নাই। রিমান্ডের আবেদন একটি কারণে তা হলো- বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় যাবে তার প্লান কি, কিভাবে এগুবে এটাই শুধু জিজ্ঞাসা করবে। এ বক্তব্যের পর রাষ্ট্র ও আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা হৈচৈ শুরু করেন। মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, মানবাধিকার আজ আপনার কাঁঠগড়ায় বসা। তিনি একজন সুশীল মানুষ। তার মতো মানুষ এমন কাজ করতে পারেন না। বিকাল ৫টা পর্যন্ত শুনানির পর বিচারক রিমান্ড ও জামিনের উভয় আবেদন নামঞ্জুর করে ফখরুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এরপর একই এজলাসে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ শেরে বাংলা নগর থানার মামলায় রিমান্ড শুনানি গ্রহণের জন্য ওঠেন। এক্ষেত্রে উভয় পক্ষের আইনজীবী একই ধরনের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। প্রায় ১০ মিনিট শুনানির পর বিচারক এ মামলায়ও রিমান্ড ও জামিনের উভয় আবেদন নামঞ্জুর করেন।
গত সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে মির্জা ফখরুল বের হলে পল্টন থানার মামলায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই মামলায় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভীও আসামি। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ২০০/২৫০ জনও তাদের সঙ্গে ছিল বলে মামলায় বলা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশের ভাঙচুরের শিকার গাড়ীর চালক মো. আয়নাল মামলাটি দায়ের করেন। অন্যদিকে শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় তিনি এজাহারনামীয় ৬ নম্বর আসামী। এ মামলায় পুলিশের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ীতে আগুন দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।