বিএনপিকে সংসদে ফিরতে হবে, হরতাল এড়াতে হবে, সহিংসতা উদ্বেগজনক
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে সংলাপে বসতে হবে
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৮
যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও ব্লেক বাংলাদেশে সংঘাত, হরতালে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে আবার সংলাপে বসতে হবে এবং আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য উপায়ে অনুষ্ঠানের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যে উপায়ে সমঝোতায় পৌঁছবে তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
তিনদিন বাংলাদেশ সফর শেষে ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সংক্রান্ত সহকারী মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা সর্বতোভাবে সংলাপ চাই। আমরা চাই বিএনপি সংসদে ফিরে যাক। নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রশ্নে কোন আইন সংশোধনের প্রয়োজন মনে করলে বিএনপি সংসদে গিয়ে তা করতে পারে। এতে দুই পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে রবার্ট ও ব্লেকের সঙ্গে মার্কিন রাষ্টদূত ড্যান মজীনা উপস্থিতি ছিলেন। রবার্ট ব্লেক হরতাল প্রসঙ্গে বলেন, উভয় দলেরই হরতাল পরিহার করা উচিত। শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের মতবিরোধ দূর করা উচিত। দুই কারণে আমরা হরতালের বিরোধিতা করি। প্রথমত: হরতালে দরিদ্র মানুষের উপর খুব কষ্টকর প্রভাব পড়ে। জীবন ধারণের জন্য তাদের আয় কমে যায়। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের ভাবমূর্তির উপর গভীর প্রভাব পড়ে যখন নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে। কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা একটি নিরাপদ ও সহজ কাজের পরিবেশ চায়। হরতাল ব্যবসা ও বিনিয়োগে কঠিন সমস্যার সৃষ্টি করে।
গত সোমবার গ্রেফতার হওয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ প্রসঙ্গে রবার্ট ব্লেক বলেন, আমি কোন উদ্বেগ প্রকাশ করিনি। তাকে গ্রেফতারের ব্যাপারটি বাংলাদেশের বিচার বিভাগ দেখবে। তবে অবশ্যই আশা করব সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা হবে। সম্প্রতি হরতাল ও অবরোধের সময় সহিংসতায় তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। পুরোনো ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিত্ নিহত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পত্রিকার প্রথম পাতায় এই ঘটনার ছবি দেখে আমি আঁতকে উঠেছি। আইন অনুযায়ী অপরাধীদের দ্রুত বিচার হতে হবে।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রসঙ্গে রবার্ট ব্লেক বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে একটি গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে।
রবার্ট ব্লেক আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রস্তাবিত টিফ্ফা চুুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। সবগুলো বাধা অতিক্রম করে বাংলাদেশকে এগিয়ে আসতে হবে।
নারী উদ্যোক্তাদের একটি আঞ্চলিক সিম্পোজিয়ামে যোগ দিতে গত ৮ ডিসেম্বর ঢাকা আসেন রবার্ট ব্লেক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তিনি সাক্ষাত্ করেন। সুশীল সমাজের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।
আলোচনার মাধ্যমেই বাংলাদেশের বর্তমান
সমস্যার সমাধান চাই
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগকে ক্রাউলি
++বিশেষ প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। একটি গণতান্ত্রিক দেশে পরস্পরের সঙ্গে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতেই বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা উচিত। এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাসের চেয়ারম্যান জোসেফ ক্রাউলি। স্থানীয় সময় রবিবার নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল তার সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে গেলে এ মন্তব্য করেন ক্রাউলি।
সাক্ষাতে কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, সংঘাতের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য পরস্পরের সঙ্গে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কোনোভাবে ব্যাহত হয় এমন কোন কিছুই আমরা প্রত্যাশা করি না। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াত জোটের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষদ বিবরণ তথ্যচিত্রসহ তুলে ধরেন। এসময় তিনি কংগ্রেসম্যান ক্রাউলিকে বলেন, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখন রায়ের অপেক্ষায় আছে এবং এই আসন্ন রায়কে ঘিরে যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের জন্য বিএনপি-জামায়াত-শিবির জোট দেশব্যাপী নাশকতা সৃষ্টি করছে। হরতাল অবরোধের নামে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের উদ্দেশ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট কর্তৃক ট্রাইব্যুনালের বিচারকের কম্পিউটার হ্যাক করে বিচারকার্যের গোপন তথ্য ফাঁস করার যাবতীয় তথ্য কংগ্রেসম্যান ক্রাউলিকে অবহিত করেন ড. সিদ্দিকুর রহমান। কংগ্রেসম্যান ক্রাউলি আওয়ামী লীগ নেতাদের কথা মনযোগ সহকারে শোনেন এবং সবাইকে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানে বিরোধী দলকে সংসদে এসে আলাপ আলোচনা করে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করার অনুরোধ জানান। প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুলধারার রাজনীতিক মোর্শেদ আলম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, কার্যকরী সদস্য শাহানারা রহমান, টিটু রহমান, জসিম উদ্দিন খান মিঠু প্রমুখ।
ফখরুলের মুক্তির দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে স্থানীয় সময় সোমবার রাতে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। দীর্ঘদিন পর এই প্রথম ত্রিধাবিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোনো কর্মসূচি পালন করলো। জ্যাকসন হাইটসের খাবার বাড়ি চত্বরে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে ফখরুলের মুক্তি দাবি করে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা গিয়াস আহমেদ, জিল্লুর রহমান, মোস্তফা কামাল পাশা, আনোয়ারুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন।
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন বাদলের নেতৃত্বাধীন একাংশের প্রতিবাদ সভা থেকে মীর্জা ফখরুলের মুক্তি দাবি করা হয় স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ সভা থেকে।