১৮ দলের নেতাকর্মীর উপর আওয়ামী লীগের হামলা
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৯
হরতালের পক্ষে মিছিল ও পিকেটিং করার সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৮ দলীয় নেতাকর্মীদের উপর আওয়ামী লীগ, যবুলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। কোথাও কোথাও বেধে যায় সংঘর্ষ। গতকাল মঙ্গলবারের হরতালেও ১৮ দলের নেতাকর্মীদের মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ, ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহের ভালুকা, গাইবান্ধা ও নোয়াখালীতে বিএনপি অফিস ভাংচুর ও আসবাবপত্রে আগুন দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভালুকায় সংবাদকর্মী সরকার সমর্থকদের হামলার শিকার হন। ৫০ জনকে পুলিশ আটক করে। আহত হন ৩৯ জন। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর
গাইবান্ধা: আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে জেলা বিএনপি অফিস ভাংচুর করে। গাইবান্ধার রিজার্ভ পুলিশের একটি টহল দল গাইবান্ধা থেকে পলাশবাড়ী যাবার পথে পলাশবাড়ীর গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পিকআপে আগুন লাগিয়ে দেয়। হামলায় ৩ জন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ শিবির কর্মীকে আটক করে। অপরদিকে দুপুর আড়াইটার দিকে আওয়ামী লীগের একটি হরতালবিরোধী মিছিল জেলা বিএনপি অফিসের সামনে দিয়ে যাবার সময় মিছিল থেকে বিএনপি অফিসে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা বিএনপি অফিসের দরজা-জানালা ভাংচুর করে। এ সময় বিএনপি অফিসে থাকা নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। পরে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে জেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ অফিসে পাল্টা হামলা করার চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া পিকেটাররা জেলার বোনারপাড়া রেল স্টেশনে সকাল ৯টা ৫১ মিনিট থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত লালমনিহাট থেকে সান্তাহারগামী একটি লোকাল ট্রেন আটকে রাখে এবং পলাশবাড়ীর ঢোলভাঙ্গায় একটি নৈশ কোচ ভাংচুর করে।
কক্সবাজার: কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও এবং চকরিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও স্টেশনে পুলিশ পিকেটারদের আটক করতে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। এতে ২ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয় জমজম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই গিয়াস উদ্দিন ও কনস্টেবল নাজমুল। পরে পুলিশ হরতাল সমর্থকদের উপর লাঠিচার্জ করে। পুলিশের সাথে স্থানীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও যোগ দেয়। এতে হরতাল সমর্থকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। চকরিয়ায় সরকার সমর্থকদের সাথে হরতাল সমর্থকদের সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চকরিয়া পৌরসভা সদরে সকালে হরতালের সমর্থনে বিএনপি এবং জামায়াত পৃথক দুইটি মিছিল বের করে। একই সময় আওয়ামী লীগের একটি মিছিল থেকে হরতাল পালনকারীদের ধাওয়া করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে হরতাল সমর্থকদের উপর গুলি করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকমীরা। হরতালকারীরাও দুইটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ৫ জন আহত হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার জানান, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত পুলিশ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১৭ জনকে আটক করেছে।
কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী): হরতালের সমর্থনে গত সোমবার রাতে উপজেলা বিএনপি অফিস থেকে ছাত্রদল একটি মিছিল বের করলে বসুরহাট জিরো পয়েন্টে আসা মাত্র যুবলীগ-ছাত্রলীগ হঠাত্ মিছিলে হামলা চালায়। এতে আহত হন পাঁচজন। আহতরা হলেন- বিএনপির উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সিরাজপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি পাভেল, তুহিন, জহির ও রাসেল। এ ঘটনায় উপজেলার সর্বত্র থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে হোন্ডা মহড়া দেয়।
নোয়াখালী: সকালে জেলা শহর মাইজদীতে জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহাজাহানের নেতৃত্বে হরতালের পক্ষে একটি মিছিল বের হয়। একই সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগ হরতালবিরোধী মিছিল করে। শহরে হরতালকারীরা বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও কাঠের গুড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে। ৮/১০ জন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতা মোটরসাইকেলযোগে হাজিরহাট এলাকায় মহড়া দেয়। এ সময় তাদের সঙ্গে ১৮ দলীয় নেতাকর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ১৮ দলীয় জোটের কর্মীরা হরতালবিরোধীদের মোটরসাইকেল থেকে ফেলে মারধর করে। এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগ ও যু্বলীগ কর্মীরা চৌমুহনী বাজারে বিএনপি অফিস এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুর রহমানের দোকান, ইউপি মেম্বার রেজার দোকানসহ বিএনপি সমর্থকদের দোকানে হামলা ও ভাংচুর চালায়। দোকানিরা মালামাল ও টাকা-পয়সা লুটপাট করার অভিযোগ করেন। এদিকে গতকাল ভোরে হরতালে সহিংসতার আশঙ্কায় পুলিশ ১০ বিএনপি কর্মীকে আটক করে।
ভালুকা (ময়মনসিংহ): ভোর রাত থেকেই সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা দা, লাঠি-সোঁটা নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে তারা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কয়েক দফা হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। আসবাবপত্র বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পৌর সদরে প্রবেশের চেষ্টা চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়। আহত লুত্ফর রহমান খান সানি ও কাঞ্চনকে ভালুকা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক যুগান্তরের ভালুকা প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম জুয়েল সরকার সমর্থিতদের হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা সাবেক সাংসদ আমান উল্যাহ চৌধুরীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে একটি গাড়ি ভাংচুর করে। পুলিশ বিএনপির ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। এছাড়া মজিবুর নামে পুলিশের এক নায়েক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
পরশুরাম (ফেনী): হরতালের সমর্থনকারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেবিপুরে এস এ পরিবহনের পার্সেলবাহী একটি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পিকেটাররা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। শহরের শান্তি কাম্পানি সড়কে ছাত্রলীগের কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৩ মাদ্রাসা ছাত্রকে কুপিয়েছে।
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়): হরতাল চলাকালীন ১৮ দলের নেতাকর্মীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সকাল ৯টায় হরতালের সমর্থনে ১৮ দল শহরে মিছিল বের করে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ পাল্টা মিছিল বের করে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম, জহির উদ্দীন ও মোতালেব আহত হয়।