মাশরাফিকে ‘বিশেষ কিছু’ দিতে চান মুশফিক

চারজনই তার অনুজ। লম্বা সময় ধরে মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহদের সঙ্গে খেলে আসছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। চারজনের সঙ্গেই তার বোঝাপড়া ভালো। অগ্রজ-অনুজ হলেও এক কাতারেই উচ্চারিত হয় পাঁচজনের নাম। গত বছর একসঙ্গে ১০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডও গড়েছেন তারা। বলা বাহুল্য, পঞ্চপাণ্ডবরাই এখন বাংলাদেশ দলের প্রাণ।

মাহমুদউল্লাহ ছাড়া বাকি চারজনই এবার চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাবেন বাংলাদেশের হয়ে। আসন্ন বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে পারেন মাশরাফি। তাই এটি নড়াইল এক্সপ্রেসের এবং পঞ্চপাণ্ডবের একসঙ্গে পথচলার শেষ বিশ্বকাপ। ওয়ানডে অধিনায়কের বিদায়ী বিশ্বকাপকে রাঙাতে চান মুশফিক। গতকাল দুপুরে মিরপুর স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, অন্তত মাশরাফির জন্য বিশ্বকাপে  বিশেষ কিছু করতে চান। বিশ্বকাপে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করাই মুশফিকের প্রাথমিক লক্ষ্য।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের দল এবার বাংলাদেশ। যেখানে পাঁচ ক্রিকেটার ১২ বছরের বেশি সময় ধরে খেলছেন। অভিজ্ঞতার ভান্ডার বিশ্বকাপে চাপ নাকি প্রেরণা হবে জানতে চাইলে গতকাল মুশফিক বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক প্রতিটি খেলায়ই কিন্তু প্রত্যাশা থাকে, চাপও থাকে। কারণ আপনি একটা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। আপনি চাইলেই বলতে পারবেন না একদিন খেলব, আরেকদিন খেলব না। এটা অনেক গর্ব ও সম্মানের ব্যাপার। এটা আমি সবসময় অনুভব করি।’

বিশ্বকাপে মাশরাফির জন্য স্মরণীয় কিছু উপহার দিতে চান মুশফিক। তিনি বলেছেন, ‘মাশরাফি ভাই এরপরে আর বিশ্বকাপ খেলতে না পারে। এটাই আমাদের এক সঙ্গে শেষ বিশ্বকাপ। তো আমরা সবাই চাইব মাশরাফি ভাইর জন্য হলেও যেন বিশেষ কিছু করতে পারি। যেটা কিনা স্মরণীয় হতে পারে। আমার মনে হয় এটা অবশ্যই অনেক বড় সুযোগ।’

অধিনায়ক হলেও বহু বছর ধরেই বাংলাদেশ দলে প্রেরণাদায়ী চরিত্র মাশরাফি। দুই পায়ে সাতটি অস্ত্রোপচারের পরও অকুতোভয় চিত্তে খেলে যাচ্ছেন তিনি। দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এনে দিয়েছেন বড় বড় সাফল্য। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত শক্তি হিসেবে গড়ে উঠেছে তার অধিনায়কত্বে।

লিগ পর্বে নয়টি ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপে সেরা চার দল খেলবে সেমিফাইনালে। আর এই নকআউট পর্বকেই প্রথমে টার্গেট করছেন মুশফিক। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় আমি ব্যক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের যথেষ্ট সামর্থ্য আছে নক আউট পর্বে যাওয়ার। আর নক আউট পর্বে গেলে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে।’

সেমিতে খেলতে হলে জিততে হবে অন্তত ৫-৬টি ম্যাচ। সেক্ষেত্রে কোন কোন দল বাংলাদেশের জন্য বাধা হতে পারে? মুশফিকের জবাব, ‘যে কোনো দল। আফগানিস্তানও কঠিন দল। ভারত-পাকিস্তান বা অন্য যে কোনো দলই কঠিন। আবার আমরা ভালো খেললে যে কোনো দলকেই হারানো যাবে। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্দিষ্ট দিনে সব বিভাগে আমরা কিভাবে করছি। আমাদের ধারাবাহিকতাটা ভালো রাখতে হবে। সব মিলিয়ে আমরা কোনো দলকেই ছোট করে দেখার সুযোগ দেখছি না।’ তার মতে, আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকেই বিশ্বকাপের জন্য আত্মবিশ্বাস, ইতিবাচক ছন্দ অর্জন করতে হবে বাংলাদেশকে।

আর সবার মতো অভিজ্ঞ এই উইকেটকিপারের মতেও এবারের দলটাই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সেরা। মুশফিক বলেছেন, ‘অভিজ্ঞতার কথা বললে বলব যে, হ্যাঁ অবশ্যই শক্তিশালী দল। হয়ত বা ওই রকম না হলেও আমার কাছে মনে হয় অন্যতম বড় দল। গত কয়েক বছরে খুব কাছে গিয়েও হেরে গিয়েছি। এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা হয়ত বড় কিছু আমাদের জন্য রেখে দিয়েছেন।’