গাজীপুরে বাড়িতে হামলা করে কলেজ ছাত্রী অপহরণ
কাপাসিয়া (গাজীপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২০
গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে এক ছাত্রীকে অপহরণের পর ঐ ছাত্রীকে উদ্ধারের সময় কাপাসিয়া থানার ওসিসহ ৬ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ছাত্রীকে উদ্ধার ও ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে কাপাসিয়া উপজেলার পাবুর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে আজিজুলের (২৫) নেতৃত্বে ১০/১২ জন মাইক্রোবাস ও জিপ নিয়ে পিস্তল, রামদাসহ পার্শ্ববর্তী কালীগঞ্জ উপজেলার ডেমড়া গ্রামে সিরাজ উদ্দিনের বাড়িতে হামলা করে। যুবকরা সিরাজ উদ্দিনের মেয়ে ও কাপাসিয়ার তারাগঞ্জ কলেজের ছাত্রীকে (১৮) অপহরণ করার উদ্দেশে খুঁজতে থাকে। সিরাজ উদ্দিনের স্ত্রী জোহরা বেগম ও বড় মেয়ে কামরুন্নাহারের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে উক্ত ছাত্রী কোথায় জানতে চায়। একটি ঘরের দরজা ভেঙ্গে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক মাইক্রোতে তুলে নিয়ে আসে। এসময় বাধা দিলে চাচাতো ভাই মিলনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। অপহরণকারীদের সহযোগী মাইনউদ্দিন মাইক্রোবাসে উঠতে না পারলে জনতা তাকে ধরে গণপিটুনী দিয়ে কালীগঞ্জ থানায় সোপর্দ করে। অপহরণকারীরা ছাত্রীকে নিয়ে কাপাসিয়ার দিকে আসছে খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি বসায়। সন্ধ্যার দিকে কাপাসিয়া থানার ওসি দেলওয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ উপজেলার বড়সিট এলাকার মোজাম্মেলের বাড়ি থেকে ছাত্রীকে উদ্ধার করতে গেলে আজিজুল, মোজাম্মেল, আমিনুল, শামীমসহ অন্যরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। এসময় ওসি ও এসআই মনির ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি করলে মূল অপহরণকারী আজিজুল গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ ছাত্রীকে উদ্ধার এবং আহত আজিজুল ও আমিনুলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। গ্রেফতারকৃতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. মোহসিন ডেফুলিয়া এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অপহরণ কাজে ব্যবহূত মাইক্রোবাস উদ্ধার করে। পুলিশ বাদি হয়ে ১টি ও কালীগঞ্জ থানায় ছাত্রীর পিতা সিরাজ উদ্দিন বাদি হয়ে ১টি মামলা দায়ের করেছেন।