হাসনাহেনা

গোপালপুরের সাধারণ ঘরের মেয়ে হাসনাহেনা। বারো বছর বয়সে যখন তার সহপাঠীদের সাথে খেলার কথা, তখন দারিদ্রতা ও পরিবারের অসহায়ত্বের কারণে তার বিয়ে হয় গ্রামের বিত্তশালী বয়স্ক মাবুদ মণ্ডলের সাথে। অথচ আগেও তার ঘরে দুই স্ত্রী আছে। এসব কথা হাসনাহেনা জানে না। বাসর ঘরে যখন বয়স্ক স্বামীকে দেখে সে ভয় পেয়ে যায়। ওই রাতে তার সাথে স্বামীর অদ্ভুত আচরণে সে মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত পায়। আর ভোর বেলা সে সতীনের সহযোগিতায় পালিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসে। বাড়িতে আসার পর হাসনাহেনা আরও অসুস্থ হয় এবং দিন দিন সে অসংলগ্ন আচরণ করতে থাকে। সময়ের সাথে সে শারীরিকভাবে বেড়ে উঠলেও দারিদ্রতার কারণে পরবর্তী জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। তাই লেখাপড়া ও বিয়ে আর হয়নি। ঘটনাক্রমে পাশের গ্রামের শিক্ষিত যুবক কবিরের সাথে হাসনাহেনার পরিচয় হয়। কবির শহরে চাকরি করলেও গ্রামের সহজ-সরল হাসনাহেনাকে তার ভালো লাগে। এক সময় পরিবারের অমতে হেনাকে বিয়ে করে কবির। কিন্তু বাসর রাতে হাসনাহেনা আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার শুধু চোখের সামনে ভাসতে থাকে বয়স্ক স্বামীর অদ্ভুত আচরণের কথা। হাসনাহেনার মানসিক অবস্থার বিষয়টি কবির সহজভাবে নিলেও তার পরিবার সেটাকে মেনে নিতে পারেনি। তাই কবির শহরে চলে গেলে হাসনাহেনার সাথে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নানা নির্যাতন চালায়। এতে হেনা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি বুঝতে পেরে কবির শহর থেকে এসে হেনাকে নিয়ে যায়। এমনই গল্প নিয়ে নির্মিত হলো টেলিফিল্ম ‘হাসনাহেনা’। রোকেয়া ইসলামের গল্প, মীর্জা রাকিবের কাহিনী বিন্যাস ও সংলাপ এবং সাদেক সিদ্দিকীর পরিচালনায় এই টেলিফিল্ম নির্মিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা পপি, শাহরিয়ার শুভ, সাগর, আন্না, শবনম পারভীন, সানি, শহীদুল আলম সাচ্চু, আবু সাঈদ খান, আফজাল শরীফ, হীরা আঁখি, পার্সিয়া, খোরশেদ আলম, মিজান, শিশু শিল্পী সানিতা, সাহেলা আক্তারসহ আরও অনেকে। এই টেলিফিল্মের চিত্রায়ন হয়েছে হোতাপাড়ার বিভিন্ন লোকেশনে। টেলিফিল্মটিতে পপির অভিনয় প্রসঙ্গে সাদেক সিদ্দিকী বলেন, ‘এ পর্যন্ত অনেক শিল্পীকে নিয়েই কাজ করেছি। অনেক চিত্রনায়িকাদের নিয়েও কাজ করেছি। তবে চিত্রনায়িকাদের নিয়ে কাজ করার মধ্যে একটা অন্যরকম ফ্লেভার পেয়েছি পপির সঙ্গে। সে চরিত্রের মধ্যে খুব সহজেই প্রবেশ করতে পারে। গল্পটিকেও ফুটিয়ে তোলার মতো অনন্য দক্ষতা তার মধ্যে রয়েছে। খুবই ভালো হয়েছে টেলিফিল্মটি। তার এই প্রতিভাই তাকে এতদূর নিয়ে এসেছে।’ টেলিফিল্ম প্রসঙ্গে পরিচালক সাদেক সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘গ্রামের এক বালিকা বধূর গল্প নিয়ে এই টেলিফিল্ম। এখানে ওই মেয়ের জীবনের নানা ঘটনা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আশা করছি এটা দর্শকদের ভালো লাগবে। সবমিলিয়ে এটি দর্শকদের জন্য একটি আলাদা চমক হবে।’ উল্লেখ্য, ‘হাসনাহেনা’ টেলিফিল্মটি শিগগিরই যেকোনো বেসরকারি চ্যানেলে প্রচার হবে।