চিরবন্ধু বিদায়

এ দেশের বিজয়ের মাসেই চলে গেলেন বাংলাদেশের চিরবন্ধু পণ্ডিত রবি শংকর। ১৯৭১-এ ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ নামের এক ঐতিহাসিক কনসার্টের আয়োজন করেছেন যুদ্ধাহত বাংলাদেশের সহযোগিতায়। সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিলেন তার উদ্যোগে। বিটল ব্যান্ডের সদস্যরা তার কথায় গেয়েছিল বাংলাদেশের গান। এ দেশের চিরবন্ধুর এই বিদায়ে তাই আজ শুধু সংগীতপ্রেমীই নয়, গোটা বাঙালি জাতির শোক। সর্বশেষ সিটিসেল-চ্যানেল আই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তার আসার কথা থাকলেও হঠাত্ অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারেননি। তবে আয়োজকদের মাধ্যমে দেশের অগণিত ভক্তদের উদ্দেশ্যে তার বার্তার ভিডিও টেপ প্রচার হয়েছিল। বলা যায় সেটিই ছিল এ দেশের জন্য বলা তার সর্বশেষ বিবৃতি। সেখানে পণ্ডিত রবি শংকর বলেছেন, ‘আমি এ দেশের নাগরিক নই, তবে তোমাদের সাথে আমার নাড়ীর টান। ভালো লাগে এ দেশের বিজয় উত্সবে কোটি বাঙালির সাথে আমি আনন্দ উদযাপন করতে পারি। এই ভালো লাগার দেশে আমার আরও একবার আসার ইচ্ছে আছে। খুব দ্রুত সুস্থ হয়েই আবার আসব।’ সেই প্রতিশ্রুতির সাথে নিয়তির যেন অনেক ফারাক হয়ে রইল। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে বিদায় নিলেন তিনি। তার প্রতি আমাদের অশেষ শ্রদ্ধাস্বরূপ পণ্ডিত রবি শংকরের অ্যালবাম থেকে কিছু দুর্লভ ছবি ছাপা হলো পাঠকদের উদ্দেশ্যে। ১. শৈশব থেকেই কিংবদন্তির সুরের গন্ধ পেয়েছিল পৃথিবীর বাতাস। ছেলেবেলার ক্ষুদে পণ্ডিত রবি শংকর। ২. যোগ্য বাবার যোগ্য কন্যা আনুশকা শংকরের সাথে একই মঞ্চে সুরের সংগত। ৩. সুখে-দুঃখে চিরসাথি পণ্ডিত রবি শংকরের স্ত্রী সুকন্যা শংকর। ৪. এই সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের শুরুর ছবি। ’৭১ -এ ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর ঘোষণায় নিউইয়র্কের প্রেস কনফারেন্সে দুই কিংবদন্তি বন্ধুর আলাপন—জর্জ হ্যারিসন ও পণ্ডিত রবি শংকর ৫. যেকোনো সংগীতপ্রেমীর জন্যই আরাধ্যজন তিনি। সুরের ঈশ্বরের কাছে তাই আশীর্বাদ চাইতেই পারেন ভারতের আরেক গুণী শিল্পী আশা ভোঁসলে।