প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

আমার বাবা কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন লড়াকু সৈনিক। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে, দেশকে স্বাধীন করার জন্য। স্বাধীনতা এলো লাখো শহীদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে। আমার বাবাও ফিরলেন নিজগৃহে, বঙ্গবন্ধুর লাল-সবুজের এই দেশে। কিন্তু স্বাধীনতার কয়েক যুগ পেরিয়ে গেলেও বাবা পাননি মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার নামটাও অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি অনেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেই মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়ে সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। আমার বাবা একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও মুক্তিযোদ্ধার সনদ পর্যন্ত পেলো না। বাবার কাছে এর চেয়ে বেশি আর কষ্টকর কী হতে পারে? বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়া এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে একটি নির্ভুল তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করার খবর জেনেছি। এ সংবাদ আমার বাবার মতো যারা এখনও সনদ পাননি তারা আশান্বিত হয়েছেন—অপেক্ষা করছেন বর্তমান সরকারের আমলেই সনদ পাবেন। বাবা তার নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্তি ও সার্টিফিকেট পাবার জন্য একটি আবেদনপত্র মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের মাধ্যমে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে ৫ জুন ২০১২ তারিখে জমা দিয়েছেন, যার রিসিট নাম্বার ৫৩০। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই আবেদনপত্রটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় সংসদে (মগবাজার) রয়েছে। বাবা শারীরিক অসুস্থতার জন্য ঢাকায় গিয়ে খোঁজও নিতে পারছেন না। বাবা উদ্বিগ্ন মৃত্যুর আগে তার সনদটি দেখে যেতে পারবেন কিনা। উল্লেখ্য, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে পত্রিকায় একটি চিঠি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ ও ২৫ নভেম্বর ২০০৭ যথাক্রমে উপ-সচিব (প্রশাসন) ও সিনিয়র সহকারী সচিব কর্তৃক আমার বাবার কাছে দুটি চিঠি আসে। বাবার কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছিল। সরকারের সিদ্ধান্ত পেলেই বাবার নাম গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে বলে জানানো হয়েছিল শেষ চিঠিতে। বিগত সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক বাবার নাম গেজেটে প্রকাশের সুপারিশ করা হয়েছিল। বর্তমানেও মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইকরণ তালিকায় নাম রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন ৯ নম্বর সেক্টরে বাবার কমান্ডার ছিলেন নিজামুদ্দীন আহমেদ, ভারতের ২৪ পরগনার হোসনাবাদে মির্জা আফজাল হোসাইনের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সে সব কাগজপত্রও বাবার কাছে এখনও আছে। বাবার সহযোদ্ধা হিসেবে যারা যুদ্ধে গিয়েছিলেন তারা ইতিমধ্যে সনদ পেয়েছেন। অথচ আমার বাবা এই শেষ বয়সে এখন আর কার কাছে ধরনা দেবেন? আরো কত বছর অপেক্ষা করলে পাবেন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। পরিশেষে, বাবার নামটি অন্তর্ভুক্ত এবং মুক্তিযোদ্ধার সনদ প্রাপ্তির ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। মুহাম্মাদ রিয়াজউদ্দিন, চন্দ্রহার, গৌরনদী, বরিশাল।