আত্মবিশ্বাসী ইংল্যান্ডের সামনে মরিয়া ভারত

টানা দুই টেস্টে বাজেভাবে হার, তাই ভারতের ক্রিকেটাররা রয়েছেন চাপে। অবশ্য চাপ কাটাতে ক্রিকেটাররা আরো একটি সুযোগ পাচ্ছেন আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া নাগপুর টেস্টে। স্বাগতিকদের এখন টেস্ট সিরিজ জয়ের নয়, বাঁচার লড়াই। চার টেস্টের সিরিজে সমতা আনার চেষ্টায় থাকা মহেন্দ্র সিং ধোনির জন্য প্রচণ্ড লড়াই অপেক্ষা করছে। কেননা ৩৬ বছর পর ভারতে টানা দুই টেস্ট জিতে অ্যালিস্টার কুক বাহিনী এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। এতটা পথ দারুণ খেলে শেষটাও ভালো করতে চাইবে তারা। আহমেদাবাদে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে ভারত নয় উইকেটে জয় পেলেও পরের দুইটি হেরে স্বাগতিকরা ১-২ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে। মুম্বাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ড দশ এবং সর্বশেষ কলকাতার ইডেন গার্ডেনে তৃতীয়টি জিতে নেয় সফরকারীরা সাত উইকেটে। সিরিজে ফিরতে হলে স্বাগতিক খেলোয়াড়দের স্বরূপে আবির্ভূত হতে হবে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সামনে রয়েছে বিরল এক কৃতিত্ব গড়ার সুযোগ। প্রায় ২৮ বছর ধরে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে ইংলিশরা সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ জয় করে ভারতের মাটিতে। ভারতের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং শচীন টেণ্ডুলকার মুম্বাই ও কলকাতায় নিজেদের সেরাটা দিতে পারেননি। ফলে ব্যক্তিগত কিছু করে দলকে টেনে তোলার তাগাদার মধ্যে আছেন তারা। এছাড়া তাদের ক্যারিয়ারও হুমকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে ধোনির অধিনায়কত্ব সমালোচিত এবং শচীনের ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারের বিদায়ের পথ সুগম করতে আলোচনার ঝড় বইছে। অ্যালিস্টার কুক বাহিনী প্রতিটি বিভাগেই ভারতকে কোণঠাসা করেছে। দীর্ঘদিন পর ভারতের মাটিতে ইংলিশদের দাপট। সেই ডেভিড গাওয়ার ১৯৮৫ সালে ভারত জয় করে গেলেন। এরপর এতদিন পর্যন্ত ভারতের মাটিতে সিরিজ অধরাই থেকে গেল ইংলিশদের। ভারতের ওপেনার গৌতম গম্ভীর এবং বীরেন্দর শেবাগ কুলিয়ে উঠতে পারছেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক ও ওপেনার অ্যালিস্টার কুক এবং নিক কম্পটনের সাথে। কুক এই সিরিজে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক। কুক এই সিরিজে তিন টেস্টের তিনটিতেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। অধিনায়ক হিসেবে পাঁচ টেস্টের পাঁচটিতে শতরান করে রেকর্ড গড়ার কৃতিত্ব দেখান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান কুক। কম্পটন ধীরে ধীরে নিজের জায়গা শক্ত করছেন। যদিও আহমেদাবাদ টেস্টে বেশ নার্ভাস ছিলেন। মিডল অর্ডারে ভারতের ডানহাতি ব্যাটসম্যান চেতেশ্বর পুজারা প্রথম দুই টেস্টে ভালো খেললেও তিনি তৃতীয় টেস্টে ধারাবাহিকতা হারিয়েছেন। শচীনের ছায়া শুধু দেখা যাচ্ছে মাঠে। পাঁচ ইনিংসে তিনি করেছেন ১১০ রান। অস্ট্রেলিয়া সফরে দারুণ খেলা বিরাট কোহলি খেই হারিয়ে ফেলেছেন। ছয় ইনিংসে করেছেন মোট ৮৫ রান। দলের করুণ পরিস্থিতির যেন প্রতিচ্ছবি। ধোনি ব্যাট ও গ্লাভস হাতেও সফল হতে পারছেন না। আগের ম্যাচে একটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। ভারতের প্রতিরোধ নেই বললেই চলে। আর বোলিংয়ে পেস ও স্পিনে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের তারা চেপে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও প্রজ্ঞান ওঝা উইকেট পেয়েছেন, তবে পরাজয় এড়াতে পারেননি। তিন টেস্টে ওঝার ১৯ উইকেট। তবুও রুখে দিতে পারেননি ইংল্যান্ডের সফলতা। আর ইংল্যান্ডের স্পিনার মন্টি পানেসার ও গ্রায়েম সোয়ান তো ভারতকে পাত্তাই দিলেন না। মুম্বাই টেস্টে তো ১৯ উইকেট এই দুইজন ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন। ভারতের জন্য কঠিন হয়ে যাবে যদি তারা এই সিরিজটি হেরে বসে। কারণ তারা ইংল্যান্ড (২০১১) ও অস্ট্রেলিয়ার (২০১১-১২) বিপক্ষে ৪-০তে হোয়াইটওয়াশ হয়। ভারতের মিডলঅর্ডার ভালো করতে পারছে না। যুবরাজ সিং বাদ পড়েছেন। ভারতীয় দলে এসেছেন রবিন্দ্র জাদেজা। টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় ২৪ বছর বয়সী জাদেজা। ভারতের বাঁহাতি পেসার জহির খানও বাদ পড়েছেন। তার বদলি হিসেবে মাঠে নামবেন দিল্লি পেসার পারবিন্দার আওয়ানা। অফ স্পিনার হরভজন সিংয়ের বদলে এসেছেন পীযূষ চাওলা। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক কুক জয়ের ক্ষুধা নিয়েই মাঠে নামবেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই (জয়ের ইচ্ছে মনে)। আপনি কখনোই মানসিকভাবে ড্র চাইবেন না ম্যাচে। আগের দুই ম্যাচে আমরা যা করেছি তাই করতে চাই এবং আবারো ভালো কিছু করতে চাই।’ তিন টেস্টে কুকের রান ৫৪৮। দারুণ ফর্মে আছেন তিনি। তবে ইংল্যান্ড দলে ইনজুরির কালোছায়া। সহ-অধিনায়ক ও দলের গুরুত্বপূর্ণ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড নেই। আর স্টিভেন ফিন এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংশয়ে রয়েছেন। ফিন না খেলতে পারলে টিম ব্রেসনান দলে আসতে পারেন। নাগপুরের উইকেটে ফলাফল আসাটা স্বাভাবিক। শুষ্ক উইকেট। স্পিনও ধরবে। তিনটি ম্যাচেই ফলাফল এসেছে। এর মধ্যে ভারত অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছে এবং হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।