বগুড়া-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস থেকে কয়েকটি পয়েন্টে প্রতিনিয়ত অবৈধ চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে। বাস মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নামে প্রতি মাসে উত্তোলন করা হয় প্রায় ১০ লাখ টাকা। অথচ বাস মালিক সমিতির সভাপতি স্বয়ং প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। এ অবস্থায় প্রশ্ন জেগেছে তাহলে কার ঈশারায় চাঁদা উত্তোলন হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় মহাসড়কের কড্ডা মোড় এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের চান্দাইকোনায় প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দূরপাল্লার বাস ও কোচ থেকে বাস মালিক সমিতি ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নামে অবৈধ চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে। কড্ডা মোড়ে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী বাসগুলো থেকে ৭০ থেকে ১০০ হারে চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে। অপরদিকে, চান্দাইকোনা বাজারে পাবনা-নগরবাড়ী মহাসড়কের বাস থেকে ২০ টাকা এবং রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও বগুড়ার বাসগুলো থেকে ৫০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয়। সিরাজগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হাদী আলমাজি জিন্নাহ দাবি করেন, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদাবাজিতে বাস মালিক সমিতির কোন সম্পৃক্ততা নেই। অবৈধ চাঁদা উত্তোলন বন্ধে ৬ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও র্যাবের কাছে লিখিতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, এমএ মতিন বাস টার্মিনালে পুলিশ প্রশাসনের নামে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী জানান, মহাসড়কে কোন অবৈধ চাঁদা উত্তোলন করা হয় না। মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের যৌথ সিদ্ধান্তক্রমে মালিক ও শ্রমিকদের কল্যাণে টাকা উত্তোলন করা হয়। এর একটি অংশ মালিক সমিতিও নিচ্ছে। মালিক সমিতির সভাপতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা যৌথ সিদ্ধান্ত না মানলে আমরা এককভাবে সিদ্ধান্ত নেব। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, বাস মালিক সমিতির সভাপতির অভিযোগের বিষয়টি অবগত হয়েছি। মহাসড়কে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।