বান্দরবানে পাথর উত্তোলন
অব্যাহত, প্রশাসন নিরব
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৪৯
বান্দরবানের রোয়াছড়িতে অবৈধপন্থায় পাহাড় এবং ঝিরি-ঝর্ণা খোদাই করে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় পরিবেশ বিধ্বংসী এই অপকর্ম চললেও রহস্যজনকভাবে নিরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন। রোয়াছড়ি সদর এবং তারাছা ইউনিয়নের ঘেরাও প্রাংসা ঝিরি ও কানাইজো ঝিরি থেকে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে অবৈধভাবে বোল্ডার পাথর উত্তোলনের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট অবৈধ এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত জলবায়ু পরিবর্তনে পরিবেশের চরম বিপর্যয়ের মুহূর্তে দিন-রাত সমানতালে পাথর ভেঙ্গে মেশিন দিয়ে কংক্রিট তৈরি করে ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পাচার করে চলেছে বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, অনুমোদিত পাথর খাস কালেকশানের নামে স্থানীয় পাহাড়ী যুবনেতা রবিসেন তঞ্চঙ্গ্যার সঙ্গে জনৈক কাশেম মাঝি এবং ঘেরাও মৌজা হেডম্যান শৈসাঅং মারমার সঙ্গে মোঃ বশরখাঁ মিলিত হয়ে পাহাড় এবং ঝিরি-ঝর্ণা খোদাই করে অবৈধপন্থায় পাথর আহরণ করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে পাহাড়ী ঝিরি-খালের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে এবং ঐসব এলাকায় বসবাসকারী ৪টি পাহাড়ী গ্রামের প্রায় আড়াইশ’ পরিবার তীব্র পানি সংকটে পতিত হবে। এ বিষয়ে ঘেরাও ভিতর পাড়া কার্বারী অংথোয়াই চিং জানান, রোয়াংছড়ি সদরের পাথর ব্যবসায়ী রবিসেন তঞ্চঙ্গ্যা, হেডম্যান শৈসাঅং মারমা, মো: বশর ড্রাইভার ও মো:কাশেম মাঝি পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পন্থায় পাথর উত্তোলন করে কংক্রিট ভাঙ্গার মেশিন দিয়ে পাথর টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছেন। পাথর উত্তোলন ও পাচারের কাজে প্রায় শতাধিক শ্রমিক নিয়োজিত।
সাবেক ইউপি মেম্বার মেচিংঅং মারমা সাংবাদিকদের জানান, দুর্নীতি-অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনায় রোয়াছড়িতে পাথর কোয়ারিগুলোতে চলছে হরিলুট। একশ্রেণীর অসাধু পাথর ব্যবসায়ী প্রতিবছর পাথর পাচার করে অবৈধপন্থায় হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
প্রভাবশালী মৌজা হেডম্যানের সহযোগিতায় পাহাড়ী জমির ভুয়া মালিক সেজে অনেকেই পাথর বিক্রি করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠছে রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রশাসন, মৌজা হেডম্যান শৈসাঅং মারমা, রবিসেন তঞ্চঙ্গ্যাসহ কতিপয় ব্যক্তি ভুয়া জমির মালিক সেজে কৌশলে লক্ষ লক্ষ ঘনফুট পাথর বিক্রি করে কোটি টাকা আত্মসাত্ করছে। অবৈধ পাথর ব্যবসা পরিচালনায় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র একটি মাস্তান বাহিনীও গড়ে তুলেছে।
এ ব্যাপারে রোয়াংছড়ি ইউএনও এস.এম শাহীন পারভেজ জানান, বর্তমানে রোয়াংছড়িতে কোনো ইউনিয়নে পাথরের কোন পারমিট ইস্যু করা হয়নি। তবে দু’মাস আগে ১০ হাজার ফুটের একটি পারমিট ইস্যু করা হয়েছিল। এছাড়া পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকার পরও পাথর উত্তোলন এবং পাচারের বিষয়ে আমার জানা নেই।