গোদাগাড়ীতে টমেটোর দাম পাওয়ায় চাষিরা খুশি

দেশের টমেটো উত্পাদনের একমাত্র রাজধানী বলে খ্যাত রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় টমেটো চাষি, ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে। এবার টমেটোর দাম পাওয়ায় টমোটো চাষিরা লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন। ৮ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লোকসান। এবার ২ বিঘা জমিতে টমোটো চাষ করে এতে মোট খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ২০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি হয়েছে। আরো ৬০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করবো। এসব কথা বলেন রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের টমোটো চাষি ইউসুফ আলী। শুধু ইউসুফ আলীর এ কথা নয়, একথা আরো অনেকের। হাবাসপুর গ্রামের কৃষক সুমন জানান, এবার ১০ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছি। শুরুতে প্রতিমণ কাঁচা টমেটো বিক্রি করেছি ১হাজার ৩শ’ টাকা করে। কৃষকরা জানায়, গত ১০ বছর থেকে সিনজেনটা কোম্পানির হাইব্রিড শীতকালীন সবল এফ-১ চাষ করে লাভবান হলেও ভেজাল বীজের কারণে ২০১০ সালে ক্ষতির শিকার হন তারা। ২০১১ সালেও টমেটোর দাম না থাকায় কৃষকদের লোকসানের মুখ দেখতে হয়েছিল। এসব কারণে টমেটোর চাষ কমছে। গতবারের তুলনায় এবার ১ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ কম হয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় শীতকালীন হাইব্রীড টমেটোর চাষ হয়েছে ২ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে। ২০১০ সালে টমেটো চাষ হয়েছিল ৮ হাজার হেক্টর জমিতে। আর ২০১১ সালে চাষ হয়েছিল ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. সাইফুল আলম জানান, হরমোন জাতীয় তরল দ্রব্য ছাড়া অন্য কোন দ্রব্য দিয়ে টমেটো পাকানো হলে সেই টমেটো নষ্ট হয়ে যাবে। গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম তুহিনুর আলম জানান, কৃষকরা টমেটো পাকানোর ক্ষেত্রে কোন প্রকার রাসায়নিক ব্যবহার না করে সেদিকে মনিটরিং কমিটি সজাগ রয়েছে। প্রত্যেক টমেটোর মৌসুমে ২শ’ থেকে ৩শ’ কোটি টাকার টমেটো কেনাবেচা হবে বলে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন।