কাউখালীর হাশেম পাননি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

দেশ মাতৃকার টানে ১৯৭১ সালে অস্ত্র হাতে জীবন বাজী রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আবুল হাসেম। কিন্তু হাশেম আলী স্বাধীনতার চল্লিশ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের জোলাগাতী গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম হাওলাদার (৬৫)। এলাকায় তাঁর পরিচিতি হাশেম মাঝি নামে। বর্তমানে তিনি কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহায়তায় বিড়ালজুড়ী আবাসন প্রকল্পে অস্থায়ীভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। স্ত্রী, চার কন্যা ও দুই ছেলেসহ আট সদস্যের পরিবার তাঁর। খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন সালসা বিক্রির কাজ। সালসা বিক্রি করে যা রোজগার হয় তা থেকেই চলে তার সংসার। সে সময় এ রকম একজন মাঝি পাওয়া খুবই দুষ্কর ছিল। ঠিক তখনই মেজর জিয়া উদ্দিন তাকে নির্বাচিত করলেন। হাশেম মাঝির সুন্দরবন ও বরিশালসহ দক্ষিণ উপকূলের জলপথ ছিল নখদর্পণে। তারপর আবুল হাশেম নৌকার মাঝি পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দেন। একদিন হাসনাবাদ থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও অস্ত্রের চালান নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন সুন্দরবন অভিমুখে। এরই মধ্যে পাকবাহিনী গান বোট থেকে ছুঁড়লো গুলি। মুহূর্তেই পাকসেনাদের মেশিনগানের গুলি এসে হাশেম মাঝির হাতে লেগে বুড়ো আঙুল উড়ে যায়। কাউখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মো. হারুন আর রশীদ সাইদ কালেরকণ্ঠকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেমের নাম তালিকাভুক্তির জন্য প্রস্তাব দিয়ে পাঠানো হয়েছে। এখনও তিনি গেজেটভুক্ত হতে পারেননি।