ছাতকে ১৭ মুক্তিযোদ্ধার
জীবন্ত সমাধি
ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:০৩
সুনামগঞ্জের ছাতকে বধ্যভূমি ‘শিখা সতের’র মূল তথ্য আজো অজানা রয়ে গেছে। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের পাশে মাধবপুর এলাকায় ১৭ জন মুক্তিযোদ্ধাকে পাকহানাদার বাহিনী জীবন্ত কবর দিয়েছিল। ছাতক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় নোয়ারাই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, কুখ্যাত রাজাকার ফকির মতছির আলী বেতুরা এলাকা থেকে ১৮ জন মুক্তিযোদ্ধাকে আটক করে পাকহানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। পাকবাহিনী এসব দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার হাত-পা বেঁধে ছাতক থানায় নিয়ে যায়। এ সময় ছাতক বাজারের বাসিন্দা জাফর আহমদ কাবেরী নামের এক যুবক পালাতে সক্ষম হন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। থানায় ১৭ জন আটক মুক্তিযোদ্ধার উপর রাতভর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। এ সময় ছাতক থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন সিদ্দিকুর রহমান। পরদিন বিকেলে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের মাধবপুর এলাকায় এসব যুবককে নিয়ে যায় হানাদাররা। স্থানীয় লোকজনকে দিয়ে এখানে একটি বিশাল গর্ত খনন করে টেনে-হেঁচড়ে মুক্তিপাগল যুবকদের গর্তে ফেলে দেয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে গর্জে উঠে হানাদার বাহিনীর মেশিনগান। তাজা রক্তে রঙিন হয়ে উঠে মাধবপুর-লালপুল এলাকার সবুজ ঘাস। এ সময় অনেকের মৃত্যু নিশ্চিত না হলেও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জীবন্ত ১৭ জন মুক্তিপাগল যুবককে নির্মমভাবে মাটিচাপা দিয়ে উল্লাসে মেতেছিল পাকহানাদার নরপশুরা। ১৯৭২ সালের ১২ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানী এ গণকবর খনন করে ১৭টি মাথার খুলি ও হাড় বের করে পুনরায় সমাহিত করেন। ঐদিন তিনি সরকারি অর্থায়নে শিখা সতেরর ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন।