হরতাল প্রত্যাহার ও সমঝোতায় সমস্যার সমাধান করুন
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:০৭
দেশের স্বার্থে হরতাল প্রত্যাহার করে সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই (ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি)। গতকাল দুপুরে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই আহবান জানান এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় বিরোধী দল সংসদে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করতে পারে। এভাবে দিনের পর দিন হরতাল দিতে থাকলে দেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে বিরোধী দল সংসদে যাওয়ার জন্য সরকারকে সেই পরিবেশও তৈরি করতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আনিসুল হক, সাবেক সহ-সভাপতি মো. আকরাম হোসেন, আবুল কাসেম আহমেদ, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম এবং বিটিএমএ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিনসহ এফবিসিসিআইয়ের পরিচালকবৃন্দ।
কাজী আকরাম তার বক্তব্যে বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা এড়িয়ে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আমরা সরকার ও বিরোধী দলের প্রতি একটি প্রস্তাব দিতে আগ্রহী। ১৭ ডিসেম্বর এফবিসিসিআই পর্ষদের বৈঠকে এই প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও বৈঠকে অংশ নেবেন।
হরতালের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, গত কয়েক দিন হরতাল এবং অবরোধ কর্মসূচি জনজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে। ব্যবসা ও অর্থনৈতিক বিবেচনাতেও হরতাল অত্যন্ত ক্ষতিকর। গত ৯ ডিসেম্বর দেশব্যাপী অবরোধ ও ১১ ডিসেম্বর হরতালের কারণে উদ্ভূত অস্থিতিশীল পরিবেশের ধকল কাটিয়ে না উঠতেই আগামীকাল (আজ) পুনরায় দেশব্যাপী অর্ধবেলা হরতাল আহ্বান করায় সমগ্র ব্যবসায়ী সমাজ গভীরভাবে উত্কণ্ঠিত। দেশে যে সংঘাত ও সংঘর্ষের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সৃষ্টি হয়েছে এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। ব্যাহত হবে শিল্পায়নের মাধ্যমে বাত্সরিক ২০ লক্ষাধিক বেকারের নতুন কর্মসংস্থানের উদ্যোগ। তাছাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নিরুত্সাহিত হবে। পাশাপাশি জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও জনগণের আয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কাজী আকরাম বলেন, হরতালের কারণে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে। যা পণ্য সরবরাহে সমস্যা সৃষ্টি করবে। দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে রফতানির জন্য পণ্য পরিবহন ও বিপণন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ী সমাজ মনে করে বাংলাদেশের মত একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের মৌলিক অধিকার খর্ব করে কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার অবকাশ নেই। তাই আমরা জাতীয় স্বার্থে জনগণের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার খর্ব করে হরতালের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছি। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিশীলতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে সংঘর্ষ ও সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান করা প্রয়োজন।
দেশে স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব বিধায় সরকারের প্রতি এফবিসিসিআইয়ের কোনো দাবি রয়েছে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে কাজী আকরাম উদ্দিন বলেন, বিরোধী দলের সাথে সমঝোতার জন্য সরকারকে অগ্রগামী ভূমিকা পালনের জন্য আহবান জানানো হবে। এছাড়া বিরোধী দলের সংসদে যাওয়ার পরিবেশ ও বিকল্প আন্দোলন কর্মসূচির ব্যাপারে আলোচনার জন্যও সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা সরকারকে বলবো।