মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারীদের অবসর
৬ ডিসেম্বরের আগে পিআরএলে যাওয়ারা ৬০ বছরের সুবিধা
পাবেন না
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:০৮
মুক্তিযোদ্ধা সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরের বয়স ৬০ বছর করা হলেও এ বিধান কার্যকর করার তারিখ ৬ ডিসেম্বরের আগে যারা পিআরএল-এ (পোস্ট রিটায়ারমেন্ট লিভ) তারা এ সুবিধা পাবেন না। গত সোমবার সরকারি চাকরিতে থাকা কর্মচারীদের অবসরের বয়স ৫৯ থেকে ৬০ বছর করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
২০০৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রথম মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরের বয়স ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়। গত বছরের ৩ ফেরুয়ারি সব সরকারি চাকরিজীবীর অবসরের বয়স ৫৯ বছর করা হয়। ফলে মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আলাদা বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত হয়ে যায়। এ অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুনরায় তাদের অবসরের বয়স দুই বছর বাড়িয়ে ৬১ বছর করার প্রস্তাব করেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অভাবে এটি দীর্ঘদিন পড়ে ছিল। অবশেষে গত ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধা চাকরিজীবীদের অবসরের বয়স বাড়ানোর ঘোষণা দেন।
২০০৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর গণকর্মচারী অবসর আইন সংশোধন করে প্রথম দফায় মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীদের অবসরের বয়স ৫৯ বছর করা হয়। এ সময় প্রকাশিত গেজেটে ্১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইনের ৪(এ) ধারায় খ উপধারায় ২ ধারা সংযোজন করে পিআরএল-এ থাকা কর্মচারীদের এ সুবিধার আওতায় আনা হয়। গত ৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা দ্বিতীয় সংশোধনীতে ২ ধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে। তবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ ধারার অধীন কৃত বা চলমান সকল কাজকর্ম এমনভাবে চলমান থাকবে যেন ওই ধারা বিলুপ্ত হয়নি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইন ও বিধি) ফিরোজ মিয়া গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, বিদ্যমান সংশোধিত আইনে ৬ ডিসেম্বরের আগে পিআরএল-এ যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীরা নতুন করে চাকরিতে বহাল হতে পারবেন না। তবে ২০০৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর পরবর্তী সময় যেসব মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারী পিআরএল-এ থাকলেও প্রশাসনিক বা অন্যান্য কারণে চাকরিতে ফেরত যেতে পারেননি—এবার তারা সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের সুযোগ দিতেই বিশেষ বিধানে ব্যবস্থা রয়েছে।
১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইনের দ্বিতীয় সংশোধনীতে মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারীদের বয়স ৫৯-এর স্থলে ৬০ শব্দ প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। এ অনুযায়ী কেউ কেউ ব্যাখা দিচ্ছেন যে, চাকরিতে যোগ দেয়া কারও বয়স ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬০ বছর না হলে তারা চাকরিতে বহাল বলে গণ্য হবে।