শ্রমিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

তৈরি পোশাক শ্রমিকদের প্রতি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স (কারখানায় কর্মপরিবেশ) পূরণে তত্পর থাকার জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আপনারা দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছেন। কর্মসংস্থান করছেন। আপনাদের আয়-উন্নতিও ভালো হচ্ছে। সরকার আপনাদের শুল্ক ও কর রেয়াত দিচ্ছে। শ্রমিকদের বেশি করে বেতন-ভাতা দেবেন। তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেবেন। শ্রম আইন মেনে চলবেন। সেইসঙ্গে উদ্যোক্তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বেশি করে রেয়াত দিলে প্রণোদনা দেব কীভাবে? গতকাল বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গার্মেন্টস পণ্য ও এক্সেসরিজের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বাটেক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বিজিএমইএ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। ১৯৯৬ সালের সরকারের সময় তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে ৩০ শতাংশ নগদ সুবিধা, ডাবল এলসি চার্জ রহিতকরণ, অগ্রিম আয়কর হ্রাস, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা, জিএসপি জালিয়াতির সুষ্ঠু সমাধান, দুইটি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন, ক্যাপটিভ জেনারেটর লাইসেন্স ফি ৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৫ হাজার টাকা, পোশাক কারখানার জন্য ভাড়াকৃত ভবনে ফ্লোর স্পেসের উপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারসহ তার সরকারের সময়ে এ খাতের উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিজিএমইএ’র উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা বিজিএমইএকে কান্ট্রি অব অরিজিন সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষমতা দিয়েছি। সামর্থ্য বাড়াতে পারলে তাদের আরো দায়িত্ব দেয়া হবে। বিজিএমইএ সরকারের কাছে জিএসপি সনদ ইস্যুর ক্ষমতা চেয়েছিল। শ্রমিকদের সরলতার সুযোগ যাতে কেউ নিতে না পারে সেই তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি কোন শ্রমিক কারখানায় আগুন লাগাতে পারে না। এটি তার জীবিকার উত্স। কারো প্ররোচনায় যাতে তারা এমন না করে তাদের প্রতি সেই আহ্বান জানান তিনি। যে কারখানায় তারা কাজ করেন সেটি রক্ষার দায়িত্বও তাদের। তিনি বলেন, আমাদের গার্মেন্টস খাতের ব্যাপক সম্ভাবনার কথা বিশ্বব্যাপী আলোচিত হচ্ছে। এমন সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। বিদ্যুত্ খাতের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় এসে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ পেয়েছি। এখন উত্পাদন হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। আরো ২৭টি বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণাধীন আছে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুুল লতিফ সিদ্দিকী, নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের, বিজিএমইএ সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ। আগামীকাল এই প্রদর্শনী শেষ হচ্ছে। আজ সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।