জহিরুল হাসান বাদশা, বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি
বরগুনা জেলা শহরে আড়াইশ শয্যা বিশিষ্ট নব নির্মিত হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ভবনের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় গত বছরের অক্টোবর মাসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভবনটিতে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেই ফাটলের সৃষ্টি। এ ক্ষেত্রে গণপূর্ত বিভাগের দাবি, এগুলো সামান্য ত্রুটি, ভবন হস্তান্তরের আগে মেরামত করে দেওয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনটির দুটি প্রবেশদ্বারের গাড়ি বারান্দায় বিশাল আকারে ফাটল ধরেছে। এ ছাড়াও ভবনের বিভিন্ন জায়গায় বিমে ও জানালার পাশ দিয়ে ফাটলের চিহ্ন দেখা গেছে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে তড়িঘড়ি করে পুনঃ মেরামতের কাজ শুরু করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বরগুনা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, নিম্নমানের কাজ না হলে এত অল্প সময়ের মধ্যে ভবনে ফাটল ধরতে পারে না। সাগর উপকূলীয় বরগুনার ১২ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির ফসল ২৫০ শয্যার বহুতল হাসপাতাল ভবনটি।
বরগুনা জেলা স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা সুখরঞ্জন শীল বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেরা বেশি ব্যবসা করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ ভবনগুলোতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে থাকে। যার কারণে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ভবনগুলো পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। তাই এসব ঠিকাদারকে আরো বেশি জবাবদিহিতার মধ্যে আনার দাবি জানান তিনি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, লবণাক্ত এলাকা হওয়ার কারণে কিছু কিছু জায়গায় ফাটল ধরেছে, তবে তা বেশি ক্ষতিকর নয়। ভবনের কাজে দীর্ঘসূত্রতার কারণ হিসেবে অর্থ সংকটসহ নানা অজুহাত তুলে ধরেন তিনি।
বরগুনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু জাফর এ ব্যাপারে জানান, বড় বড় এসব ভবন নির্মাণের সময় ছোটখাটো দু-একটি সমস্যা হয়, তবে এর ফলে ভবনে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আর ত্রুটিপূর্ণ কাজগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমাধান করেই ভবনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।