নাসিম আলী, পিরোজপুর অফিস
জলাধারগুলো ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় পিরোজপুর শহরের অগ্নিদুর্ঘটনা দেখা দিলে ফায়ার ব্রিগেডকে মারাত্মক পানি সংকটে পড়তে হয়। সম্প্রতি শহরের বাজার এলাকায় দু’টি অগ্নিকাণ্ড সামাল দিতে গিয়ে এই ঘটনা প্রকট হয়ে ওঠে। শহরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত শাখাসহ দামোদর খাল শুকনো মৌসুমে পানি শূন্য থাকায় এ সমস্যা আরো গুরুতর হয়ে দাঁড়ায়। শুকনো মৌসুম অগ্নিদুর্ঘটনা প্রবণ হওয়ায় পিরোজপুর শহরে প্রতিবছরই ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একাধিক আগুনের ঘটনা ঘটে।
শহরের মধ্যে থাকা পুকুর বা কোনো জলাধার ও খাল উত্স হিসেবে ব্যবহার করে দূর থেকে পাইপের মাধ্যমে আনা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। দুর্ভাগ্যক্রমে আগুনের ভয়াবহতা আয়ত্তে আনতে ব্যর্থ হলে আশপাশের ফায়ার স্টেশনকে ডাকা হয় আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য। তখন নাজিরপুর, ভাণ্ডারিয়া ও কাউখালী উপজেলা এবং বাগেরহাট জেলার দমকল এসে পিরোজপুরের আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। তবে এদের সঙ্গে সাধারণত ওয়াটার ইউনিট থাকে না বলে পাম্প বসানোর জন্য জলাধার খোঁজে। কিন্তু শহরে জলাধারের সংখ্যা গত কয়েক বছরে আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।
পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পুকুর, কালিবাড়ি মন্দিরের পুকুর, রাজারহাটের রাজার পুকুর, থানার পুকুর, পাড়েরহাট রোডের সিএন্ডবি কোয়ার্টারের সামনের পুকুরসহ সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন অনেক পুকুর গত ২০ বছরে পিরোজপুর শহরে ভরাট করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্ষাকালসহ বছরের বেশিরভাগ সময় পৌর বাজারের পাশের দামোদর খালে পানি থাকলেও শুকনো মৌসুমে শূন্য হয়ে যায়। সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা হচ্ছে শহরের ভিতর থেকে প্রবাহিত দামোদরের শাখা খালটির। বাজার থেকে উত্সারিত এই খালটি একসময় পাড়েরহাট বন্দরের ভারানী খাল হিসেবে নৌকা চলাচলের পথ ছিল। বর্তমানে দখলদাররা এ খালটি ভরাট করে ফেলেছে। পৌরসভা থেকে দুই বছর আগে এ ভারানী খাল পুনর্খননের কাজ শুরু করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
অন্যদিকে উকিলপাড়ার পুকুর, আমলাপাড়ার বকপুকুর, শিক্ষা অফিস পাড়ার বড় পুকুরসহ ব্যক্তিগত ও পৌরসভার মালিকানাধীন কিছু পুকুর ভরাট করার নানা প্রয়াস রয়েছে। গত ১৭ এপ্রিল শহরের বাজার রোডে এক আগুনে সাতটি দোকান পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় দমকল কর্মীদের পানি পেতে প্রাণান্তকর পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়। শহরের কেন্দ্রস্থলের বড় জলাধার পৌর রিজার্ভ পুকুরে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন থাকায় অবস্থা ছিল অত্যন্ত গুরুতর। নির্মাণাধীন কেন্দ্রীয় মসজিদের ভূগর্ভস্থ জলাধারের পানি ব্যবহার করে আগুন নেভানো হয়। এ সময় ঘটনাস্থলের আশপাশের অধিবাসীরা বালতি, কলসি, গামলা ভর্তি পানি ঘর থেকে এনে আগুন নেভাতে সহযোগিতা করেন।
পিরোজপুর ফায়ার ব্রিগেড ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের উপ-সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, প্রকৃত পক্ষেই এই মৌসুমে আগুনের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। পিরোজপুর শহরের আগুন নেভাতে তারা পানির জন্য খুবই সমস্যায় পড়েন। এক মাস আগে তিনি জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়র বরাবরে চিঠি দিয়ে এই সমস্যাটি জানিয়ে রিজার্ভ পুকুরের পাড়ে পাম্প বসানোর জন্য দু’টি প্লাটফর্ম নির্মাণের অনুরোধ করেছেন।
পিরোজপুর জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা নকীব ইত্তেফাককে বলেন, সমস্যাটি অত্যন্ত প্রকট। রিজার্ভ পুকুরের পূর্ব পাশে এই প্লাটফর্ম নির্মাণ করার প্রস্তাব দিয়ে সম্প্রতি জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অনুরূপ দাবি জানানো হয়েছে।