সাবেক রাষ্ট্রপতি
ইয়াজউদ্দিনকে
বনানীতে দাফন
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩০
সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে গতকাল বৃহস্পতিবার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে তাঁর চারবার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত সোমবার ৮১ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। বাংলাদেশ বিমান ইএ ০৮৯ করে গত বুধবার রাতে হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর লাশ এসে পৌঁছায়।
মরহুমের কফিনে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের পক্ষে একান্ত সচিব ফজলুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দল শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তৃতীয় এবং বাদ আছর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মরহুমের প্রথম জানাজা গত সোমবার ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার বাদ আছর গুলশানের আজাদ মসজিদে তাঁর কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে। মরহুমের ছেলে ইমতিয়াজ আহমেদ বাবু কুলখানিতে সকল আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি বাছির উদ্দিন জুয়েল জানান, সকাল সোয়া ৯টায় মরহুমের প্রতিষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজ মাঠে দ্বিতীয় দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় আত্মীয়-স্বজন, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-ছাত্রসহ মুন্সীগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির জেলা সভাপতি আবদুল হাই, রাষ্ট্রপতির পুত্র ইমতিয়াজ আহমেদ বাবু, ভাতিজা বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা টেলি সামাদ, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি এনডিসি আবদুল কাদের, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর নাসির উদ্দিন উজ্জ্বল। জানাজার আগে মরহুমের জীবনী নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
মৃত্তিকা বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ ধান গাছের ওপর লবণাক্তের প্রভাব এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে উচ্চফলনশীল ধান নিয়ে গবেষণা করেন। উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান মাটিতে জমা করে রাখা এবং তা প্রয়োজনমতো উদ্ভিদকে সরবরাহ করার ওপর তিনি সফল গবেষণা চালিয়েছেন। তার বহু গবেষণামূলক প্রকাশনা রয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে সরিয়ে অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে রাষ্ট্রপতি করে।