চুলপড়া সমস্যা-২১

চুলপড়া সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লিখতে গিয়ে বই পুস্তকের পাশাপাশি বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা হচ্ছে। আমি একাধিকবার লিখেছি শরীরের বাড়তি ওজন কমানোর জন্য ক্রাশ ডায়েটিং বা অতিমাত্রায় খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করলে চুলপড়ে। কারণ খাদ্য নিয়ন্ত্রণের ফলে শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট কমে যায়। ফলে চুলপড়ে। কিন্তু গত সপ্তাহে দু’জন তরুণ আমার চেম্বারে আসে। তাদের এক সময় মাথা ভর্তি চুল ছিলো। এখন অনেক চুলপড়ে গেছে। সাধারণত: পুরুষের ক্ষেত্রে আমি প্রথমে এন্ড্রোজেনেটিক এলোপেসিয়া বা হরমোনজনিত চুলপড়া সমস্যার কথা মাথায় রাখি। তরুণ দু’জন বন্ধু। একই সঙ্গে আমার চেম্বারে ঢুকেছে। নানা প্রশ্ন করেও চুলপড়া সমস্যার সঠিক কারণ বের করতে পারছিলাম না। তখন একজন তরুণ জানালো দু’বন্ধু মোটা হবার জন্য একটি চায়নিজ হারবাল ওষুধ সেবন করার পর থেকে তাদের চুলপড়তে শুরু করে। আস্তে আস্তে চুল পাতলা হয়ে যায়। তবে মোটা হবার জন্য তারা কি ধরণের চায়নিজ ওষুধ সেবন করেছে তা বলতে পারেনি। তবে এ ধরণের মোটা তাজা করার প্রতারণার ফাদ থেকে তরুণদের রক্ষা করার কেউ নেই। থাক এসব কথা। দু’তরুণের মাথার অবস্থা দেখে মনে হলো ক্ষতিকর কোন কিছু সেবনের কারণে শরীরে এক ধরণের টক্সিসিটি বা বিষক্রিয়া তৈরী হয়েছে। যার ফলে চুল পড়ছে অতিমাত্রায়। তাই যারা ওজন কমাতে চান তাদের কোন অবস্থাতেই চিকিত্সকের পরামর্শ ব্যতীত ওজন কমানোর ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। এছাড়া মনে রাখবেন ওজন বাড়ানোর জন্য কোন ওষুধ নেই। এটা নিছক প্রতারণা। বিশেষ করে মহিলাদের ওজন ওজন কমানোর ওষুধ, হারবাল টি, সেবনে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে। তাই এধরণের হারবাল উপাদান সেবন করা উচিত নয়। যাহোক, তরুণদ্বয়কে কোন ধরণের ওরাল মেডিসিন বা মুখে খাবার ওষুধ না দিয়ে একটি টপিক্যাল লোশন মাথার ত্বকে স্পেরে করে লাগানোর পরামর্শ দিলাম এবং ২ মাস পর দেখা করার জন্য বললাম। সাধারণত: আমি সব সময় বলে থাকি নানা কারণে চুল পড়তে পারে। তবে চুলপড়া কোন সমস্যা বা রোগ নয়। চুলপড়ার যথাযথ কারণ জেনে চিকিত্সা দেয়া গেলে অবশ্যই চুলপড়া সমস্যা কমতে পারে। এছাড়া চুলপড়া ক্ষেত্রে যদি হেয়ার ফলিকল থাকে তবে নতুন চুলও গজাতে পারে। তাই চুলপড়া সমস্যার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোন চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিত্সা নেবেন। যখন তখন চুলপড়া সমস্যায় ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করবেন না।