আজ যেসব এলাকা হানাদারমুক্ত হয়
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৬
আজ ১৫ ডিসেম্বর। ’৭১ সালের এই দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকা হানাদারমুক্ত হয়। এ উপলক্ষে ঐ সব স্থানে মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। খবর দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
সিলেট
১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর সিলেট মুক্ত দিবস। ওলিকুল শিরমণি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর পুণ্যভূমি সিলেট থেকে তাদের বিতাড়িত করা হয়। তাই সিলেটবাসীর নিকট এই দিনটি গৌরবোজ্জ্বল এবং বিশেষভাবে স্মরণীয়। অব্যাহত হামলার পর ১৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী চারদিকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তবুও মরিয়া হয়ে উঠে রক্ষার জন্য। এদিন তারা ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয় সিলেট শহরের ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রিজের একাংশ। মুক্তিযোদ্ধারা তখন খুব কাছে গিয়ে তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে পাক সেনারা আত্মসমর্পণ করে। এ যুদ্ধের নেতৃত্বে ছিলেন রফিকুল হক। সঙ্গে ছিলেন বেলায়েত হোসেন খান জামাল, ম,আ, মুক্তাদির, আফরাইন,আব্দুল মতিন, গামা, মনির উদ্দিন প্রমুখ।
গাজীপুর
ঐতিহাসিক ১৫ ডিসেম্বর গাজীপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বর্বর পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে গাজীপুর মুক্ত হয়েছিল। প্রতি বছরের ১৫ ডিসেম্বরের এই দিনটি গাজীপুরবাসীর জন্য অত্যন্ত স্মরণীয় ও গর্বের দিন। তবে এ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজীপুর-ঢাকা মহাসড়কের ছয়দানা এলাকা দিয়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পাকহানাদার বাহিনীর বিরাট একটি কনভয়ের উপর মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর উপর্যুপরি প্রচণ্ড গোলাবর্ষণ অব্যাহত থাকায় গাজীপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধারা সম্মিলিতভাবে প্রবেশ করতে পারেনি। পরদিন ১৬ ডিসেম্বর খুব ভোরে বিজয়ীর বেশে মুক্তিযোদ্ধারা গাজীপুরে প্রবেশ করে।
দিনাজপুর
১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের হামলার মুখে দিনাজপুর জেলা হতে পাক সেনারা চলে যায়। ডিসেম্বরের শুরুতেই মুক্তিযোদ্ধাদের হামলার মুখে পাকসেনারা কোনঠাসা হয়ে পড়ে। ৮ ডিসেম্বর চিরিরবন্দরে মুক্তিযোদ্ধারা ৫১ জন রাজাকারকে বন্দী করে। ১০ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা বিরলে পাক সেনাদের ঘাটির উপর হামলা চালায়। ১১ ডিসেম্বরে বিরলের অধিকাংশ এলাকা মুক্ত হয়ে যায়। ১২ থেকে ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলার হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, বীরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে আসে। ১৪ ডিসেম্বর পাকসেনারা কাঞ্চন ব্রিজ ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিনাজপুর থেকে সৈয়দপুর যেতে থাকে। ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মিত্রবাহিনী যোগ দেয়। এরপর পাকসেনারা দিনাজপুর থেকে চলে যায়। ১৫ ডিসেম্বর গভীর রাতে দিনাজপুর মুক্ত হয়। এদিকে আজকের দিনে, মুক্তিযোদ্ধাদের কঠোর প্রতিরোধের মুখে পাকহানাদার বাহিনীরা অবাঙ্গালী অধুষিত পার্বতীপুর থেকে পালিয়ে যায়। ফলে ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রচণ্ড মুক্তিযুদ্ধের পর দিনাজপুরের পার্বতীপুর হানাদার মুক্ত হয়।
খাগড়াছড়ি
১৯৭১ সনের এ দিনে মুক্তিবাহিনীরা পাকবাহিনীদের হটিয়ে সকালে দখল নিশ্চিত করে খাগড়াছড়ি শহরে স্বাধীন বাংলার বিজয় পতাকা উত্তোলন করেন। পুরো শহরে বিজয়ের উল্ল¬াস ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। তখন থেকে জেলাবাসী পালন করে আসছে হানাদার মুক্ত দিবস কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া ক্যাপ্টেন আবদুল কাদের স্মৃতিসৌধ অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে এখনো।