অনিয়ম অব্যবস্থাপনায় জৌলুস হারাচ্ছে রেলের চট্টগ্রাম অঞ্চল

অনিয়ম, দুর্নীতি, অবহেলা, অব্যবস্থাপনার কারণে চট্টগ্রামে রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা ও তত্সংলগ্ন এলাকা জৌলুসহীন-গিঞ্জি এলাকায় পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রসহ শহরের বিশাল এলাকা রেলের মালিকানাধীন। এক সময়কার আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের হেডকোয়ার্টার সিআরবি বর্তমানে রেলের পূর্বাঞ্চলী জোনের প্রধান কার্যালয়। চুন-সুরকির তৈরি ভবনটিও অযত্নে- অবহেলায় প্রাণহীন হয়ে পড়েছে। রেলের পূর্বাঞ্চল জোন বাংলাদেশ রেলের আয়ের দিক থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-সিলেট লাইনে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে আয় সর্বাধিক। সমপ্রতি টিকিটের মূল্য দ্বিগুণ করা হয়েছে। যাত্রীরা ভাড়া বেশি প্রদান করলেও সেবার মানের তেমন একটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি। ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় যেন নিত্যদিনের ঘটনা। একইভাবে রেলের সিট, টয়লেটসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সেই আগের মতোই রয়ে গেছে। চট্টগ্রাম রেলস্টেশন যাত্রীদের বিশ্রামাগার ও টয়লেট সুবিধা সংকুচিত করে দোকানপাট ও রেস্টুরেন্ট করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। পুরো স্টেশনের ভেতর সাইনবোর্ড ও নিয়ন বোর্ডে ভরে গেছে। এগুলো বরাদ্দের ক্ষেত্রেও কিছুদিন পূর্বে ওএসডি হওয়া বিভাগীয় বাণিজ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। শুধু স্টেশনের ভেতর নয়, পুরো স্টেশনের চারপার্শ্বে বিলবোর্ড দিয়ে স্টেশনকে ঢেকে দেয়া হয়েছে। পেন্সিডিলসেবীসহ মাদকসেবীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে স্টেশন এলাকা। রেলে নিরাপত্তা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতার কারণে তা বন্ধ হচ্ছে না বলে স্বয়ং রেলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান। রেলের দুই পাশে এবং রেলের জায়গায় বস্তিঘর গড়ে উঠা যেন কোনভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। রেলের বিদ্যুত্, পানি, এমনকি অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস পর্যন্ত অহরহ ব্যবহার করা হচ্ছে এসব অবৈধ স্থাপনায়। রেলের এস্টেট ও নিরাপত্তা বিভাগের লোকজন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্রয়-প্রশয়ে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চলছে বলে রেলের লোকজন জানান। রেলের প্রাকৃতিক নান্দনিক পরিবেশ ধ্বংসের জন্য রেলের লোকজনকেই দায়ী করছেন এলাকাবাসী।