কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে গিয়ে কোনো রকম শাস্তি দেয়া যাবে না

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা কোমলমতি, ফুলের মতো মন ওদের। ওদেরকে আমরা যেভাবে গড়ে তুলবো ওরা ঠিক তেমনি হবে। কোমলমতি এই বাচ্চারা খুবই অনুকরণ প্রিয়। তাই এই অনুকরণপ্রিয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে যদি আমরা ওদের মানসিক বিকাশে ভালো কিছু তুলে ধরতে পারি তাহলে, সেটা ওরা অতি সহজে গ্রহণ করে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় ওদের মাঝে আবেগপ্রবণতার সৃষ্টি করা। সুন্দর নামে ওদের সম্বোধন করা। কখনোই ওদের বিকৃত নামে না ডাকা। এতে ওদের মাঝে মানসিকভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলে। ‘তুই’ বলে কখনো সম্বোধন করা যাবে না। এই জাতীয় মাধুর্যহীন সম্বোধন বাক্য অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে। ওদের আকৃষ্ট করার জন্য শিক্ষক মহোদয় বিভিন্ন ধরণের কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। যেমন ধরুন, ওদের ব্যক্তিগত খোঁজ খবর নেয়া। একটু মাথায় হাত বুলানো, কাছে গিয়ে কুশলাদি বিনিময় করা, জামার বোতামটা খোলা থাকলে লাগিয়ে দেয়া। ঠিকঠাক মতো খাওয়া দাওয়া করছে কিনা তা জেনে নেয়া বা তার কোন সমস্যা আছে কিনা ইত্যাদি। বিশেষভাবে শিশুদের মাঝে মায়ের কদর অনেক বেশি। তাই আপনি শিক্ষার্থীর মনকে আপনার প্রতি আরো বেশি মনোযোগ আকর্ষণের জন্য ওর আম্মুর সম্পর্কে একটু জেনে নিলেন। যেমন বলা যেতে পারে, তোমার মা তোমাকে অনেক বেশি আদর করে। বলতো সে তোমাকে কীভাবে আদর করে। এতে করে দেখা যাবে ঐ শিক্ষার্থী আপনাকে আগের থেকে অনেক বেশি ভালোবাসবে। আপনার পড়া সে নিয়মিত আদায়ের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে। আপনার আদর স্নেহ তাকে এটা করাবে। আর শিশুমন তো এমনই। আপনার স্থানটা থাকবে তার কাছে অনেক উর্ধ্বে। এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে গিয়ে কোনো রকম, দৈহিক, মানসিক, মৌখিক শাস্তি দেয়া যাবে না। মানসিক চাপের কারণে দেখা গেছে অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তর থেকে জড়ে পড়ছে। তাই বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কোনোরকম শাস্তি দেয়া যাবে না। প্রাথমিক স্তরে ৬০% মহিলা শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। একমাত্র কারণ তারা মাতৃস্নেহে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করবে। মা অনেক কষ্ট সহ্য করেও সন্তানের প্রতি সহিষ্ণুতা বজায় রাখেন। মাতৃত্ব শক্তি তাকে এ অসাধ্য সাধনে সক্ষম করে।