বটিয়াঘাটায় ‘সেরাদের সেরা’ খোঁজার ব্যতিক্রমী চেষ্টা

এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় সেরা অবস্থানপ্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীদের ভেতর থেকে সেরা অর্থাত্ ‘সেরাদের সেরা’ খুঁজে বের করার ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন বটিয়াঘাটার এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। বটিয়াঘাটা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অবসরে গিয়ে ৩৮ বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার আলোকে দুই বছর আগে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত খরচে প্রভাষ চন্দ্র রায় শুরু করেন এই নতুন উদ্যোগ। বিভিন্ন স্কুলের সেরা ছাত্র ছাত্রীরা এতে অংশ নেয়। তিনি মনে করেন নির্বাচনী পরীক্ষার পর এসএসসি পরীক্ষার আগে তিন মাস সময় থাকায় ছাত্র ছাত্রীরা লেখাপড়া অনেকটা কমিয়ে দেয়। যে কারণে আশানুরূপ ফল পায় না। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহন করায় তারা লেখাপড়ায় মনোযোগী হয়। তাছাড়া এসএসসি পরীক্ষার আগে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের একই স্থানে উপস্থিতি পরীক্ষায় একটা নতুন আমেজ সৃষ্টি করে। তাদের জড়তা হ্রাস পায়। প্রভাষ রায়ের সেরাদের সেরা বাছাইপর্ব জনপ্রিয়তা পাওয়ায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ২৬টি স্কুল থেকে এ বছর শতাধিক ছাত্র ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য আবেদন করে। প্রতি স্কুলের মানবিক, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান শাখা থেকে এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় যারা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান পায় কেবল তারাই এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। প্রশ্নপত্র তৈরী করেন বিভিন্ন স্কুলের অভিজ্ঞ শিক্ষকগণ। তিনি এ পরীক্ষার নাম দিয়েছেন ‘সেরাদের সেরা নির্বাচনী অভীক্ষা’। পরীক্ষায় প্রত্যেক বিভাগ থেকে শীর্ষ ৩ জনকে পুরস্কার দেয়া হয়। তাছাড়া এবছর সেরা স্থান লাভকারী পরীক্ষার্থীর অভিভাককেও পূরষ্কৃত করা হবে। ফলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে উঠেছে। গত ১২ ডিসেম্বর বটিয়াঘাটা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৪টি স্কুলের ৬০ জন সেরা ছাত্র-ছাত্রী এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের ১৭ জন ছাত্র এবং ৪৩ জন ছাত্রী। বারআড়িয়া মাধ্যমিক স্কুলশিক্ষক নিতাই চন্দ্র সরকার, বটিয়াঘাটা স্কুল শিক্ষক নবকুমার রায়, বিএইচ এম এইচ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বপন মহালদার, রাসমোহন বালিকা বিদ্যালয়ের তরুণ কান্তি ঢালী ও আলাইপুর রাজবাধ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশীষ বিশ্বাস সহ পাইলট স্কুলের শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন। জেলা শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরীক্ষার্থীদের উত্সাহ প্রদান করেন। আজ ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে শীর্ষ স্থান প্রাপ্তদের হাতে পূরষ্কার তুলে দেয়া হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতিমা বেগম ইত্তেফাককে বলেন, প্রভাষ রায় যে মহতী উদ্যোগ গ্রহন করেছেন অবশ্যই তাকে সাধুবাদ জানাই। উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান বলেন, আমার উপজেলায় যে উদ্যোগ প্রভাষ রায় শুরু করেছেন তা প্রতিটি উপজেলায় নিদর্শন হয়ে যাক।