প্রতিবন্ধী শিক্ষক সালাউদ্দিনের আকুতি শোনার কেউ নেই

ইসলামপুরের আত্মপ্রত্যয়ী মেধাবী অসহায় প্রতিবন্ধী শিক্ষকের নাম এজিএফএম সালাউদ্দিন ফারুক । কিশোর বয়সে ট্রেনে উঠতে গিয়ে পা পিছলে ট্রেনে কাটা পড়ে একটি হাত এবং একটি পা হারান। জীবন সংগ্রামে সালাউদ্দিন পঙ্গুত্বের অভিশাপ মাথায় নিয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। কিন্তু একটু সহানুভূতি, একটু সহযোগিতার জন্য প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বরং পদে পদে বঞ্চিত হয়ে আহাজারি করে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। প্রতিবন্ধী শিক্ষক সালাউদ্দিনের বাড়ি জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার গুঠাইল গ্রামে। নিজ এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ না পেয়ে বীর নন্দনের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেন। প্রায় ৪ বছর ধরে তিনি যানবাহনবিহীন যমুনার তীরবর্তী এ চরাঞ্চলে প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে কর্মস্থলে যাতায়াত করছেন। যমুনা চরাঞ্চলের ৩ কিলোমিটার বিধ্বস্ত রাস্তা পেরিয়ে তার কর্মস্থলে যাতায়াত করা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। প্রতিবন্ধী শিক্ষক সালাউদ্দিন জানান, তার বাড়ির পার্শ্বে গুঠাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে বদলীর জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে অনেক কাকুতি-মিনতি করেও কোন সহযোগিতা পাননি বলে তিনি অভিযোগ করেন। সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রতিবন্ধী ও জ্যেষ্ঠতার বিষয় বিচার না করে সর্বকনিষ্ঠ এক শিক্ষিকার কাছে সুবিধা নিয়ে ঐ শূন্যপদে ঐ শিক্ষিকাকে বদলী করার অভিযোগ করেছেন শিক্ষক সালাউদ্দিন । এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদন করে দীর্ঘদিনে কোন প্রতিকার না পেয়ে বর্তমানে হতাশায় রয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।