রাজশাহীতে জমি দখলে গিয়ে পুলিশ গণপিটুনির শিকার

রাজশাহীর পবার খিরসিন টিকর গ্রামে এক ব্যক্তির হয়ে জমি দখল করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছে পুলিশ। এরা হলেন নগরীর বোয়ালিয়া থানার কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম ও ফারুক হোসেন। এসময় পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছে স্থানীয় মাজদার আলী (৪৫)। তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ১৭ এলাকাবাসী আহত হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পবার খিরসিন টিকর গ্রামের হারেজ, রুস্তম, মন্টু, মাজদার ও মকছেদ ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে ভুগরইল এলাকার মৃত ময়েজুদ্দিন ছেলে মেরাজের নিকট থেকে দুই কিস্তিতে ৫৬ কাঠা ক্রয় করেন। সেই থেকে ক্রেতারা উক্তজমি ভোগদখল করে আসছিলেন। সমপ্রতি মেরাজ ও তার ভাইয়েরা উক্ত জমি রাজু আহম্মেদ ওরফে রেজার নিকট বিক্রি করেন। অভিযোগ প্রকাশ, নতুন ক্রেতা রাজু নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) সফিকের নেতৃত্বে পুলিশ এবং একদল সশস্ত্র মাস্তান নিয়ে শুক্রবার জমিটি দখল করতে যান। এ সময় পূর্বের ক্রেতা হারেজ, রুস্তম, মন্টু, মাজদার ও মকছেদ বাধা দিলে পুলিশ তাঁদের উপর লাঠিচার্জ শুরু করে। খবর পেয়ে এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশ ও রেজার লোকজনকে পিটুনি দিতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগানের গুলি ছোঁড়ে। এতে জমির ক্রেতা মাজদার আলী গুলি বিদ্ধ হন। রেজা দাবি করেন, সমপ্রতি তিনি ময়েজুদ্দিনের তিন ছেলের ওয়ারিশদের নিকট থেকে ঐ জমি ক্রয় করেন। কিন্তু খিরসিন টিকর গ্রামের হারেজ, রুস্তম, মন্টু, মাজদার ও মকছেদ তাকে জমিতে যেতে বাধা দেয়। তিনি পুলিশের সহায়তা চাইলে পুলিশ সেখানে যায়। এ সময় খিরসিন টিকর গ্রামের হারেজ, রুস্তম, মন্টু, মাজদার ও মকছেদের লোকজন পুলিশসহ তাদের উপর হামলা চালায়। এ ব্যাপারে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার এসআই সফিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বোয়ালিয়া থানার ওসি আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ জমি দখল করতে যায়নি। দুইপক্ষের সেখানে সংঘর্ষ থামাতে ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের উপর হামলা করে। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। এতে দুই কনস্টেবল আহত হয়। ঐ এলাকা বোয়ালিয়া থানার অধীনে কি না। সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি বোয়ালিয়া থানার ওসি।