মাঠে বিশৃঙ্খলায় উদ্বিগ্ন ফেডারেশন

শুক্রবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে পেশাদার ফুটবল লিগে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব এবং আবাহনী ম্যাচের পর দর্শকরা মাঠে ঢুকে যেভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে তাতে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। উচ্ছৃঙ্খল দর্শকরা যেন খেলার মাঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে তার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে ফেডারেশন। এ জন্য আজ লিগ কমিটি জরুরি বৈঠকে বসছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথেও তারা বৈঠক করবে এবং সহযোগিতা চাইবে। ফুটবল মাঠের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে অধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্যোগ নিবে ফেডারেশন। এমনকি যেসব দর্শক মাঠে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর হস্তক্ষেপ নিবে বাফুফে। গ্যালারি থেকে ফেন্স টপকে মাঠে ঢুকে যাওয়া ঠেকানোর জন্য অস্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বাফুফে থেকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু তার কোনো জবাব পায়নি বলে শুক্রবার রাতে ঘটনার পর জানিয়েছিলেন লিগ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান আবদুর রহীম। গতকাল লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী জানিয়েছেন, আমরা গত অক্টোবরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে চিঠি দিয়েছিলাম অস্থায়ী ভাবে কাঁটাতারের বেষ্টনী স্থাপনের জন্য।’ শেখ জামাল-আবাহনী ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে আবাহনীর পশ্চিম গ্যালারি থেকে গ্রিল টপকে প্রথমে একজন উত্তেজিত দর্শক লাঠি হাতে মাঠে প্রবেশ করে ভীতি ছড়ান। ফটো সাংবাদিকদের দিকেও তেড়ে যান, মোড়া লাথি মেরে ফেলে দিয়ে তিনি গ্যালারিতে ফিরে যান। অন্য দর্শক ঢিল ছুঁড়ে শেখ জামালের নাইজেরিয়ান কোচ জোসেফ আপুসির মাথায় আঘাত করলে আহত হন তিনি। খেলা শেষ হওয়ার সাথে সাথে ভিআইপি গ্যালারি থেকে দর্শকরা মাঠে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এই সব ঘটনা প্রতিরোধ করতে পুলিশ নিরাপত্তা বাড়াতে চায় বাফুফে। উত্তেজিত দর্শক যেন গ্যালারি থেকে সহজেই মাঠে ঢুকতে না পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নেবে লিগ কমিটি। বর্তমান ফুটবলে দর্শক খরা রয়েছে একথা ঠিক। পৃষ্ঠপোষক সংকট রয়েছে। তারপরও ফুটবল খেলাটাকে ভালোবেসে গাঁটের পয়সা খরচ করে যারা মাঠে আসেন তারা দেখছেন সামান্য বিষয় নিয়ে তুলকালাম পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন কিছু দর্শক। খেলায় যতটা না উত্তেজনা হয়, তার চেয়েও বেশি উত্তেজিত হন মুখ চেনা দর্শকরা। এই সব দর্শক প্রতিদিন বিনা টিকিটে স্টেডিয়ামে ঢুকে মোহামেডান আবাহনীর পক্ষ নিয়ে খেলোয়াড়দের ড্রেসিং রুমের পাশে অবস্থান নেন। দলের খেলোয়াড়রা ব্যর্থ হলেও তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই তাদের, তবে রেফারির সামান্য ভুল হলেই সেই সুযোগ নিয়ে তারা মাঠে ঢুকে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পরিবেশ নষ্ট করেন। ফেডারেশন কাপ ফুটবলে মোহামেডান কোচ সাইফুল বারী টিটুকে লাঞ্ছিত করেছিলেন মুখ চেনা দর্শকরা। মাঠে ঢুকে এমন অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড কারা করেছেন বাফুফে তা জানে, কিন্তু কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। একবার বাফুফে ভবনের গেটের সামনে রেফারি মিজানুর রহমানকে মেরে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছিল সেই পরিচিত সমর্থকরা। সেবারও কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। আর এসব সুযোগে বহুল পরিচিত সমর্থকরা বার বার একই ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছেন ফুটবল মাঠে। তারা বিনা বাধায় সরাসরি মাঠে ঢুকছেন, বিনা টিকিটে ভিআইপি গ্যালারিতে গিয়ে বসছেন, উত্তেজিত হয়ে ভাঙচুর করছেন এবং রেফারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাফুফের কর্মকর্তাদের নাম ধরে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন। তাদের কারণে সাধারণ দর্শকরা মাঠের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। সেদিকটা ঠেকাতে বাফুফেকে কোনো পদক্ষেপও গ্রহণ করতে দেখা যায় না। কিসের স্বার্থে, কার স্বার্থে-সে প্রশ্ন থেকে যায়। মাঠে ভাঙচুর হলে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পুলিশও উত্তেজিত দর্শক ঠেকাতে খুব একটা আগ্রহ দেখান না। তবে বাফুফে থেকে কাল জানা গেল, তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। যেন আগামী খেলাগুলো সুন্দর পরিস্থিতিতে শেষ হতে পারে।