আশুগঞ্জে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার
নৌবন্দর স্থাপনে তোড়জোড়
প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন
সেলিম পারভেজ, আশুগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:০৬
ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার নৌবন্দর স্থাপনে জোড় তত্পরতা শুরু হয়েছে। নৌবন্দর স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ভূমি অধিগ্রহণ বিষয়ে গতকাল শনিবার সকালে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির ১১ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে এক বৈঠকে মিলিত হন। পরে তারা প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
কমিটির প্রধান নৌমন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব-১ মোঃ আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপ-সচিব মোঃ জিয়াউর রহমান খান, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) উপসচিব মোঃ খলিলুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক মহিদুল ইসলাম, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি শেখ জাকির হোসেন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি বিভাগীয় স্ট্যাট অফিসার আহমাদুল হক, বিসিআইসি‘র মহাব্যবস্থাপক (সিভিল) মোঃ নজরুল ইসলাম, আশুগঞ্জ সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ সালাহউদ্দিন ও কমিটির সদস্য সচিব বিআইডাব্লিউটিএ সচিব মোঃ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করে মোঃ শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আশুগঞ্জে নৌবন্দর স্থাপন করা হলে এটি ট্রান্সশিপমেন্ট কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ বন্দর স্থাপনে ভারতের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার নৌবন্দর স্থাপনে প্রায় ৬শ’ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। ইতিমধ্যে প্রায় ২৪৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে বন্দরের ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে আরো ১টি জেটি ইতিমধ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে। নদী পথের নাব্যতা সমস্যাও সমাধানের জন্য নদী খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। বিআই-ডব্লিউটিএ’র সূত্রে জানা যায়, আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার নৌবন্দর স্থাপনের জন্য ২৮ দশমিক ৬৭ একর জায়গা প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে ৩ দশমিক ১৬ একর জায়গা আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার কোম্পানির, সাড়ে ৪ একর খাদ্য অধিদফতরের, ৩ দশমিক ৮৫ একর বাংলাদেশ রেলওয়ের এবং বাকি ১৭ দশমিক ১৬ একর জনসাধারণের। এই নৌবন্দরে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে গত ২ ডিসেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে নৌ-মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ আলাউদ্দিনকে প্রধান করে আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার নৌবন্দর স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নৌ-মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করার কথা রয়েছে।
এই প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরচারতলা মহরুম পাড়ার পুরো এলাকা ঘনবসতি এবং মেঘনা নদীর পাড় ঘেঁষা ১০টি রাইস মিল রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক কর্মরত। অধিগ্রহণের কারণে যদি এই গ্রামটি উচ্ছেদ করা হয় তাহলে প্রায় চার শতাধিক পরিবার তাদের ভিটে-মাটি যেমন হারাবে, তেমনি রাইস মিলগুলোতে কর্মরত পাঁচ শতাধিক শ্রমজীবী মানুষ হারাবে কর্মসংস্থান। মহরুমপুর বাসিন্দা জামাল মিয়া ও দুলাল মিয়া জানান, আমাদের বাড়ি-ঘর অধিগ্রহণ করে সরকার যে ক্ষতিপূরণ দিবে, ১০ শতাংশ জায়গার টাকায় ১ শতাংশ জায়গাও ক্রয় করা যাবে না। শহর শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম হোসেন ইপটি জানান, আশুগঞ্জে কন্টেইনার নৌবন্দর স্থাপন করা হলে এখানকার ব্যবসায়ীরা লাভবান হতে পারেন। তবে ভারতকে এককভাবে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেয়ার আগে দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের ভেবে দেখা উচিত।