নাচে গানে কথায় কবিতায় যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২০
‘রুখে দাঁড়াও পরাজিতের হুঙ্কার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই এবার’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ১১ দিনের বিজয় উত্সবের সপ্তম দিন শনিবার রাজধানীর ১০টি মঞ্চে একযোগে পরিবেশিত হয় প্রেরণাদায়ক গান, দেশাত্মবোধক নাচ, আবৃত্তি, পথনাটক, চলচ্চিত্র ও শিশু-কিশোর পরিবেশনা। গানে, কবিতায় কথায় উচ্চারিত হয় লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া এই স্বাধীন বাংলাদেশকে সুন্দর করে গড়ে তুলবার প্রত্যয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যকর করার দাবি।
মূল ভেন্যু কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এদিন দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে ক্রান্তি, পঞ্চভাস্বর ও ওস্তাদ মমতাজ আলী খান সঙ্গীত একাডেমী। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন রূপু খান, সফিউল আলম রাজা, সুতপা সাহা, রতন সরকার, প্রলয় সাহা, পল্লব গোমেজ, সেমন্তী মঞ্জুরি। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে মুক্তধারা ও ঢাকা স্বরকল্পন। একক আবৃত্তি করেন ইকবাল খোরশেদ, শামীমা নাসরিন, ফয়জুল্লাহ সাঈদ, সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যশ্রী। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি হয় এখানকার আয়োজনের। ধানমন্ডি সরোবরে মাহবুবুল হায়দার মোহন মঞ্চে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে বহ্নিশিখা, ঋষিজ, রবিরাগ, সুরবিহার। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে স্বরচিত্র, বাকশিল্পাঙ্গন, আবৃত্তি একাডেমী, উদীচী কেন্দ্রীয় বিভাগ। পথনাটক মঞ্চস্থ করে নাট্যধারা ও দৃষ্টিপাত। এখানে দেখানো হয় চলচ্চিত্র ‘শ্যামল ছায়া’। উত্সবের অন্যান্য মঞ্চে দেখানো হয় ‘আল বদর’, ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্যামলা ছায়া’, ‘আগামী’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র। এ ছাড়া শিশু একাডেমীর শহীদ মতিউর রহমান মঞ্চ, ঢাবির স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর, রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ, দনিয়ায় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব আলমগীর কুমকুম ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ, মিরপুরে ফটোসাংবাদিক শওকত জামিল ও কাজী বিপ্লব ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র মঞ্চ, মিরপুর মুক্তবেদী ১০নং গোল চত্বরে আবৃত্তিশিল্পী কাজী আবু জাফর সিদ্দিকী মঞ্চ এবং উত্তরার রবীন্দ্র সরণী মুক্তমঞ্চে ছিল বিজয় উত্সবের অনুষ্ঠানমালা। আজ রবিবার ১০টি মঞ্চ থেকে পরিবেশিত হবে অষ্টম দিনের অনুষ্ঠানমালা।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত ‘মানবাধিকার দিবস থেকে বিজয় দিবস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানমালার ষষ্ঠ দিন শনিবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও নতুন প্রজন্ম’ শীর্ষক বক্তব্য রাখেন অনুরাগ চাকমা। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠী। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে মুক্তধারা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বেগম রহিমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও শ্যামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। বাউল সঙ্গীত পরিবেশন করেন কুষ্টিয়ার আনোয়ার বাউল ও তার দল।
মিরপুরের জল্লাদখানা বধ্যভূমি স্মৃতিপীঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় দ্বিতীয় দিন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় প্রভাতী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, রঙধনু শিল্পী সংঘ, বধ্যভূমির সন্তানদল, মিথস্ক্রিয়া আবৃত্তি পরিষদ, ঘাসফুল (মিরপুর), উচ্চারণ (মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ), সঙ্গীতাঙ্গন (মনিপুর), উদীচী পল্লবী শাখা ও মিরপুর সাংস্কৃতিক ঐক্য ফোরাম। আজ সকাল ১০টায় শিশু-কিশোরদের আনন্দানুষ্ঠান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সাতদিনের অনুষ্ঠানমালা।
বিজয় দিবসের শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা
জাতীয় জাদুঘরের শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে দুই দিনব্যাপী বিজয় দিবস উদযাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকালে শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শুরু হয় কর্মসূচি। খুদে আঁকিয়েরা রং-তুলির খেলায় ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলে মুক্তিযুদ্ধসহ স্বদেশের নানাচিত্র। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন এএইচএম মতলুব আলী ও চিত্রশিল্পী অধ্যাপক সৈয়দ আবুল বারক্্ আল্্ভী। সভাপতিত্ব করেন জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি এম আজিজুর রহমান।
বিকালে জাদুঘর এবং প্রত্যয় ও প্রতিপালকের যৌথ উদ্যোগে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাদুঘরের মহাপরিচালক প্রকাশ চন্দ্র দাস। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শান্তনু সাহা রায়। অনুষ্ঠানে প্রত্যয় নিবেদিত ড. শ্যামল চৌধুরীর কথা ও সুরে এ মাটিতে জন্ম আমার-শীর্ষক অডিও সিডির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।