বিশ্বজিত্ ইস্যুতে সরকারের অবস্থান দুর্বল :মেনন
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৩
জামায়াত-শিবিরের আগ্রাসী আচরণের আশু লক্ষ্য হলো মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চলমান বিচার প্রক্রিয়া বানচাল করে তাদের মুক্ত করে আনা। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘সাম্প্র্রতিক ঘটনাবলী কি বাংলাদেশকে নিকট অতীতের আফগানিস্তানের দিকে ঠেলে দিচ্ছে’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেছেন।
সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের আয়োজনে এই সভায় অজয় রায়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন রাশেদ খান মেনন, পঙ্কজ ভট্টাচার্য, খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, ড. আবুল বারকাত প্রমুখ।
সভায় রাশেদ খান মেনন বলেন, যুদ্ধাপরাধী বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। হয় পক্ষে নয় বিপক্ষে। জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বিচার ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঝড় আসলে হাল ঠিক করে ধরে রাখতে হয়। কিন্তু এই হাল ধরে রাখার জন্য মাল্লা প্রয়োজন। আমরা মাল্লাই ঠিক করতে পারছি না। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে যে আন্দোলন হচ্ছে সেটি কেয়ারটেকারের আন্দোলন নয়। বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের অবস্থানকে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করে মেনন বলেন, খুনিকে খুনি বলতে দোষ কোথায়। সরকারকে এ নিয়ে কেন ডিফেন্সিভ পজিশনে যেতে হবে?
অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বিশ্বজিতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের কথা বলেন। একই সঙ্গে আত্মসমালোচনার তাগিদ দেন।
পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, একটি অশনী সংকেত দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উঠে আসার জন্য যে নেতৃত্ব প্রয়োজন সেটি অবর্তমান। তারপরও মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোন বিকল্প নেই।
আলোচনায় অংশ নিয়ে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, আমরা মোটেই আফগানিস্তান হতে যাচ্ছি না। তবে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছি। তিনি বলেন, বিশ্বজিতের খুনের সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগের ছেলেদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অফিস থেকে বলার কি দরকার ছিল? চুপ থাকলেই হতো। এর মাধ্যমে কি সত্য লুকানো যাবে। এসব ছোট ছোট ঘটনা আমাদের বিব্রত করে। তিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক শত্রুদের বন্ধু বানিয়ে ফেলতেন। কিন্তু আজ পরীক্ষিত বন্ধুদের শত্রু বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। সহিংসতা ছাড়া জামায়াতের আর কোন উপায় নেই। সবচেয়ে ভালো সময়ও তারা ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। সুতরাং সহিংসতা করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা তারা করবেই। এই কাজে বিভিন্ন সময় তারা সমর্থনও পেয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন সম্পর্কে তিনি বলেন, মানবাধিকার সংগঠন হলেই আপনারা নরম হয়ে যাবেন না। অনেকেই নানাভাবে তুষ্ট হয়ে কথা বলে। সুতরাং তাদের বাজিয়ে দেখে নিতে হবে। জামায়াত কাউকেই ছাড়বে না। এর আগে আমরা সে দৃষ্টান্ত দেখেছি। সে কারণেই আমাদের ঐক্যবন্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
ড. আবুল বারকাত বলেন, মূলধারার অর্থনীতির মধ্যে জঙ্গি অর্থনীতি আছে। মূলধারার সরকারের মধ্যে জঙ্গি সরকার রয়েছে। মূলধারার রাষ্ট্রীয় মেশিনারির মধ্যে জঙ্গি আছে। অর্থনীতি যখন দুর্বৃত্তায়িত হয় তখন রাজনীতিও দুবৃত্তায়িত হয়। এখন সেটাই হচ্ছে। বিপর্যয় আমাদের দোরগোড়ায়। এ সময় বসে থাকলে চলবে না। মৌলবাদী অর্থনীতির যে ভিত্তি তাতে হস্তক্ষেপ করে বাজেয়াপ্ত করতে হবে। জাতীয়করণ করতে হবে। জঙ্গিদের অর্থ ও অস্ত্রের উত্স পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে। মূলধারার সরকার ও রাষ্ট্রের মধ্যে জঙ্গিদের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।
অজয় রায় বলেন, গৃহযুদ্ধ সম্পর্কে কথা বললে আর চলবে না। গৃহযুদ্ধ এখন আমাদের দোরগোড়ায়। এটা কি হতে দেবো আমরা বাংলাদেশে?