দুলাল চেয়ারম্যান হত্যা

খুনিদের কঠোর শাস্তি দিয়ে ভাণ্ডারিয়াবাসীকে কালিমামুক্ত করতে হবে

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, দুলাল চেয়ার-ম্যানের ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তিদানের ব্যবস্থা করে ভাণ্ডারিয়াবাসীর মুখে লিপ্ত কালিমা মোচন করা হবে। এই কলংক মুক্ত করে এ এলাকার মানুষের অহংকার-গর্ব তথা ভাবমূর্তি পুনঃস্থাপিত করতে আমি আমৃত্যু চেষ্টা চালিয়ে যাব। তিনি গতকাল শনিবার ভাণ্ডারিয়ায় গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান দুলালের জানাজায় শরিক হওয়া শত শত শোকার্ত মানুষের উদ্দেশে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে আরও বলেন, দুলাল ১৬ বছর জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভাণ্ডারিয়াবাসীর সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। এলাকার উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ এই আপোষহীন যুবক মাদকের করাল গ্রাস থেকে সমাজকে মুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর মনোভাবের অধিকারী দুলাল তাই পর পর চারবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন , গত ২৮ বছর এলাকার সংসদ সদস্য ও ১২ বছর মন্ত্রী থাকাকালে আমি স্থানীয় নেতৃত্বের যে সহযোগিতা পেয়েছি, সেক্ষেত্রে দুলাল ছিলেন আমার ঘনিষ্ঠতম সহযোগী। রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষের কাছে ভাণ্ডারিয়ার অবস্থান হচ্ছে ঈর্ষণীয় পর্যায়ের। স্থানীয় মানুষ ও নেতৃবৃন্দের রাজনৈতিক দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার উন্নয়নে দুইযুগের অধিক সময়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে ভাণ্ডারিয়া দেশব্যাপী এই ভাবমূর্তি গড়তে সমর্থ হয়। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আইন হাতে তুলে নিয়ে যারা দুলাল চেয়ারম্যানের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা ভাণ্ডারিয়াবাসীর অর্জিত গৌরবকে কালিমালিপ্ত করেছে। আমি যতদিন বেঁচে আছি ততদিন আমার প্রচেষ্টা থাকবে যাতে আগামীতে এই জাতীয় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে না পারে। মনে রাখতে হবে সমাজে রাজনীতি থাকবে, আমার সাথে কারও রাজনীতি নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে, চিন্তার পার্থক্য থাকতে পারে এক্ষেত্রে আপোষ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তা নিরসন করে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা সমীচীন। এক্ষেত্রে হিংসা-বিদ্বেষ কাম্য নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গায় খুন-খারাবি হয়, হানাহানি হয় কিন্তু আমরা গর্বের সাথে বলতাম ভাণ্ডারিয়া এর ঊর্ধ্বে। দেশ স্বাধীন হয়েছে ঘৃণা-বিদ্বেষমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য। পাকিস্তান বা বৃটিশ আমলের পরাধীন সময়ের মত মানুষকে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মধ্যে নিক্ষেপ করা হলে স্বাধীন দেশের চরিত্র রক্ষা করা কঠিন। মাস্তানি পেশীশক্তি দেখিয়ে স্বাধীনতার সুফল নষ্ট যারা করেন তাদের আইনি ব্যবস্থার মধ্যে কঠোর হস্তে প্রতিহত করা হবে। দুলালের মত একজন জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যানকে যারা খুন করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা দেশের সর্বোচ্চ মহলের সাথে কথা বলেছি এবং তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসও দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভাণ্ডারিয়ায় শান্তিপ্রিয় একটি সমাজ ব্যবস্থা বিরাজ করায় প্রশাসনের দৃষ্টি এড়িয়ে এখানে কিছু কিছু মাদক ব্যবসার বিস্তার ছাড়াও ভূমি দস্যুতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এলাকার উন্নয়নে অতীতে যেমন স্থানীয় জনগণ ঐক্যবদ্ধ ছিলেন তেমনি মাদক ও ভূমিদস্যুতাসহ সকল ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করে আইন যাতে নিজস্ব গতিতে চলে তার যথাযথ চেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে। এক লাখ টাকা পুরস্কার জানাজার আগে শোকার্ত মানুষের উদ্দেশে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার এস এম আক্তারুজ্জামান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, দুলাল চেয়ারম্যানের মত একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধিকে যে বা যারা হত্যা করেছে তারা আইন-শৃঙ্খলার চরম শত্রু। এসব খুনিকে জীবিত বা মৃত ধরিয়ে দিতে পারলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একলাখ টাকা পুরস্কার দেয়া হবে। জানাজার আগে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিমও বক্তব্য রাখেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দুলাল চেয়ারম্যানের জানাজায় অংশ নিতে বেলা তিনটায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে ভাণ্ডারিয়া আসেন। জানাজা শেষে তিনি মিনি সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে সংক্ষিপ্ত ও ঘরোয়া বৈঠক করেন। বৈঠকে আনোয়ার হোসেন নিহত দুলাল চেয়ারম্যানের খুনিদের খুঁজে বের করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতার আহ্বান জানান। এ সময় ভাণ্ডারিয়ার ইউএনও কাজী মাহবুবুর রশীদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলাম ও ওসি মতিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।