রামপালে তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে অচলাবস্থা

বাগেরহাটের রামপালে প্রস্তাবিত তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ নির্মাণের ক্ষেত্রে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অধিগ্রহণের পর ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু হলেও তা হঠাত্ করেই থেমে গেছে। টেন্ডার আহ্বান করে তা বাতিল এবং পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করায় বিশাল এই কাজটির শুরুতেই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ১৩২০ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতার এ বিদ্যুত্ কেন্দ যথাসময়ে নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দেশের বিদ্যুত্ সংকট মোকাবেলায় সরকার দক্ষিণাঞ্চলের রামপালে কয়লাভিত্তিক বৃহত্ এই তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ টি নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। বিদ্যুত্ সংকট সমাধানের পাশাপাশি এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। রামপালের এই কয়লাভিত্তিক কেন্দ টি খুলনা শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার ও মংলা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে। কেন্দ টি নির্মাণের জন্য প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। উপজেলার সাপমারী ও কাটাখালী মৌজায় প্রায় ৪ হাজার একর জমির ওপর বিদ্যুত্ কেন্দ টি স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ মালিকানায় এ কেন্দ টির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০১৫ সালে। সরকারি এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী রামপালের কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুত্ কেন্দে প্রথম পর্যায়ে ৬৬০ মেগাওয়াট করে দুই ইউনিটে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে বিদ্যুত্ কেন্দ র কাজ সম্প্রসারণ করে উত্পাদন করা হবে আরো ১৩০০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুত্। বিদ্যুত্ কেন্দে র জ্বালানি হিসাবে ব্যবহূত হবে বড় পুকুরিয়ার কয়লা। এ কয়লা মংলা সমুদ্র বন্দর দিয়ে মালবাহী জাহাজে আনা হবে। এদিকে বিদ্যুত্ কেন্দ নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমি উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন করার জন্য বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ওয়াপদার ড্রেজার বিভাগকে দায়িত্ব দেয়। ড্রেজার বিভাগ গত ২০ মে প্রকল্প এলাকা বুঝে পাওয়ার পর পশুর নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি তুলে ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু করে। কিন্তু হঠাত্ করে ড্রেজার বিভাগ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কয়েক দিনের ব্যবধানে অন্যত্র বদলি হয়ে গেলে নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী দায়িত্ব নেয়ার পর চলমান কাজ থেমে যায়। সেই সাথে আনুষঙ্গিক কিছু কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়াও বাতিল করে দেয়া হয়। আবার সেই কাজের রি-টেন্ডার করা হয়। এরপর আরো ৬৪ গ্রুপের কাজের জন্য নয়া নির্বাহী প্রকৌশলী টেন্ডার আহ্বান করেন গত ১২ নভেম্বর। কিন্তু টেন্ডার দাখিলের দিনই তা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এদিকে ভূমি উন্নয়নের জন্য সঠিক সময় শুষ্ক মৌসুম, যার মধ্যে দু’মাস ইতিমধ্যে পার হয়ে গেছে। হাতে আর অল্প সময় আছে। এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ কাজে বিলম্বের কথা অস্বীকার করে বলেন, টেন্ডার নিয়ে কিছু সমস্যা দেখা দেয়ায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। একটি সূত্র জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের এই তাপ বিদুত্ কেন্দ নির্মাণকে ঘিরে একটি সুবিধাবাদি মহল ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত। মহলটি এ কাজের পেছনে কুষ্টিয়ায় বাড়ি এমন একজন দালালকে লাগিয়ে রেখেছে। সে এই কাজের সাথে যুক্তদের কাউকে কাউকে ম্যানেজ করে নিজেদের সুবিধা লাভের জন্য নানাভাবে কাজ বিলম্বিত করছে। বিদ্যুত্ বিভাগের একজন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদুল হক বলেন, বিদ্যুত্ সমস্যা মোকাবিলায় সরকার জ্বালানি তেলের পরিবর্তে কম খরচে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দে র নির্মাণ কাজে হাত নেয়। কিন্তু একটি বিশেষ মহলের অপতত্পরতার কারণে যদি এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বিলম্বিত হয় তাহলে সেটা হবে দু:খজনক। এ পরিস্থিতিতে কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুত্ কেন্দ নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময়ে সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হলে কাজের গতি সচল রাখতে হবে। এছাড়া সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নিয়মিত মনিটরিং করাও দরকার বলে তিনি মনে করেন।