মূর্ত প্রেমের প্রতীক বুদ্ধদেব বসু
প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৩৬
বুদ্ধদেব বসু আধুনিক বাংলা কাব্য-আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত। বুদ্ধদেব বসুর আমলে রবীন্দ্রনাথকে মনে পড়ে। প্রতিভার বিচিত্রমুখিতায় রবীন্দ্রনাথই তাঁর তুলনা। তিনি কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, অনুবাদক, সমালোচক ও সম্পাদক সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক কবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নন তিনি, তবে প্রধান পুরোহিত। কবিতা সম্পাদনা করে, আধুনিক কবি ও কবিতার পক্ষে প্রবন্ধ লিখে, বিশ্বের আধুনিক কবিতা অনুবাদ করে তিনি আমদের আধুিনকতার শিক্ষক হয়ে আছেন। তিনি আধুনিক কবিদের মধ্যে সবচেয়ে গীতিময় ও আবেগপ্রবণ। তাঁর মনের ধর্ম ছিল প্রেম। তিনি প্রেমের কবি। তাঁর অধিকাংশ কবিতাই প্রেম নিয়ে রচিত হলেও সে প্রেম রোমান্টিক প্রেম নয়। প্রেমকে রোমান্টিক কবিদের মত অতীন্দ্রিয় ,অশূর্তভাবে তিনি দেখেন নি, দেখেছেন মূর্ত, শরীরী রূপে। তিনি প্রেমের দেহী রূপ অনুভব করলেও কামনার কারাগার হতে বারবার মুক্তি পেতে চেয়েছেন। কারণ তিনি মনে করেন শুধু কামনার পরিতৃপ্তিতেই মনুষ্যত্বের প্রকাশ ঘটে না।
জন্ম : কুমিল্লা, নভেম্বর ১৯০৮।
কাব্যগ্রন্থ : মর্মবাণী (১৯২৫), বন্দীর বন্দনা (১৯৩০), পৃথিবীর পথে (১৯৩৩), কঙ্কাবতী (১৯৩৭), দময়ন্তী (১৯৪৩), দ্রৌপদীর শাড়ী (১৯৪৮), শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৫৩), শীতের প্রার্থনা : বসন্তের উত্তর (১৯৫৫), যে আঁঁধার আলোর অধিক (১৯৫৮), দময়ন্তী : দ্রোপদীর শাড়ী ও অন্যান্য কবিতা (১৯৬৩), মরচে পড়া পেরেকের গান (১৯৬৬), একদিন : চিরদিন (১৯৭১), স্বাগত বিদায় (১৯৭১) ইত্যাদি।
উপন্যাস : সাড়া (১৯৩০), সানন্দা (১৯৩৩), লাল মেঘ, (১৯৩৪), পরিক্রমা (১৯৩৮), কালো চাওয়া (১৯৪২), তিথিডোর (১৯৪৯), নির্জন স্বাক্ষর (১৯৫১), মৌলিনাথ (১৯৫২), নীলাঞ্জনের খাতা (১৯৬০), পাতাল থেকে আলাপ (১৯৬৭), রাত ভর বৃষ্টি (১৯৬৭), গোলাপ কেন কালো (১৯৬৮), বিপন্ন বিস্ময় (১৯৬৯) ইত্যাদি।
গল্প : অভিনয়, অভিনয় নয়(১৯৩০), রেখাচিত্র (১৯৩১), হাওয়া বদল(১৯৪৩), শ্রেষ্ঠগল্প (১৩৫৯), একটি জীবন ও কয়েকটি মৃত্যু (১৯৬০) হূদয়ের জাগরণ (১৩৬৮), ভালো আমার ভেলা (১৯৬৩), প্রেমপত্র (১৯৭২)।
প্রবন্ধ : হঠাত্-আলোর ঝলকানি (১৯৩৫), কালের পুতুল (১৯৪৬), সাহিত্যচর্চা (১৩৬১), রবীন্দ্রনাথ: কথাসহিত্য (১৯৫৫), স্বদেশ ও সংস্কৃতি (১৯৫৭), সঙ্গ নিঃসঙ্গতা ও রবীন্দ্রনাথ (১৯৬৩), প্রবন্ধ সংকলন (১৯৬৬), কবি রবীন্দ্রনাথ (১৯৬৬)।
ভ্রমণ কাহিনী : সব পেয়েছির দেশে (১৯৪১), জাপানি জার্নাল (১৯৬২), দেশান্তর (১৯৬৬)। নাটক : মায়া-মালঞ্চ (১৯৪৪), তপস্বী ও তরঙ্গিণী (১৯৬৬), কলকাতার ইলেক্ট্রা ও সত্যসন্ধ (১৯৬৮)।
স্মৃতিকথা : আমার ছেলেবেলা (১৯৭৩), আমার যৌবন (১৯৭৬)।
অনুবাদ : কালিদাসের মেঘদূত (১৯৫৭), বোদলেয়ার : তাঁর কবিতা (১৯৬০), হেল্ডালিনের কবিতা (১৯৬৭), রাইনের মারিয়া রিলকের কবিতা (১৯৭০)।
পুরস্কার : ১৯৬৭ সালে ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ কাব্যনাট্যের জন্য সাহিত্য আকাদেমী পুরস্কার, ১৯৭০-এ পদ্মভূষণ উপাধি ও ১৯৭৪-এ ‘স্বাগত বিদায়’ গ্রন্থের জন্য রবীন্দ্র-পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ।
মৃত্যু : ১৮ মার্চ ১৯৭৪; কলকাতা।