জীবনের মূল্যে লাভজনক ট্যানারি ব্যবসা

চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে চামড়া শিল্প বা ট্যানারিতে কাজ করছে বাংলাদেশের ট্যানারি শ্রমিকরা। অনেক মুনাফা করলেও তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়ে মালিক পক্ষ বরাবরই অমনোযোগী। ট্যানারি শিল্পে শ্রমিকদের চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য গার্ডিয়ান একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ‘বাংলাদেশ’স টক্সিক ট্যানারিস টার্নিং এ প্রফিট এট এন ইনট্ররেবল হিউম্যান প্রাইস’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে গার্ডিয়ান আরো বলেছে, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এ সব কারখানায় এখনো অনেক শিশু শ্রমিক কাজ করছে। রাজধানীর হাজারীবাগে ঘিঞ্জি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অল্প বেতনে শ্রমিকরা কাজ করছে। প্রতিবেদনে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিওএইচও) বরাত দিয়ে বলা হয়, হাজারীবাগের ট্যানারি কারখানার ৯০ ভাগ শ্রমিক ৫০ বছর বয়সের আগে মারা যান। কারখানার অর্ধেক শ্রমিকই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগেন। হাজারীবাগের কারখানার দূষিত বর্জ্য নদীর পানিকে চরম দূষিত করছে। নদীর পানি গিয়ে মিশছে অন্য নদী এমনকি বঙ্গোপসাগরে। এই পানি দিয়ে ধান উত্পাদন হচ্ছে। চাষ হচ্ছে রফতানিযোগ্য চিংড়ি। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের মানসম্মত সস্তা চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের কদর আছে। কিন্তু এখানে শ্রমিকরা যথাযথ মূল্য পায় না, তাদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি বরাবরই থাকে উপেক্ষিত। সরকারের অঙ্গীকার থাকলেও এসব কারখানাকে স্থানান্তর করতে ব্যর্থ হচ্ছে। অনেক শিশু এসব কারখানায় কাজ করে আবার তারা স্থানীয় স্কুলেও যায়। স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষকের বরাত দিয়ে বলা হয়, ক্লাসের এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী ট্যানারিতে কাজ করে। তিনি বলেন, তারা রাতের শিফটে কাজ করে দিনে ক্লাসে এসে মনযোগ দিতে পারে না। পড়া বুঝতে পারে না। ঘুমিয়ে পড়ে। ১৯৯০ সাল থেকে সরকার এসব কারখানা সরানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক্ষেত্রে সহায়তাও করতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু বর্জ্য পরিশোধন (ইটিপি) স্থাপন সংক্রান্ত জটিলতায় এটি আটকে যায়। মালিক পক্ষ স্থানান্তরের জন্য সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছে। প্রতিবেদনে সম্প্রতি আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়, পশ্চিমাদের সস্তা পোশাক বানাতে গিয়ে গত মাসে ১১১ শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা গেছে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, ট্যানারী মালিকরা ধনী এবং রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী।