সোনালি আলোয় ভরে উঠবে আমাদের প্রতিটা সকাল
সোহায়েল হোসেন (সোহেল), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী।
প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৫
সমস্যার সাত নদী পেরিয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে কুয়াশাচ্ছন্ন অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে সম্ভাবনার দিকে যতই এগিয়েছি, হাতেগোনা কয়েকটি সমস্যার জন্য ততই পিছিয়েছি আমরা। লাখো মানুষের রক্তস্নাত লাল সবুজের দেশ বাংলাদেশ। মানচিত্রে যার অস্তিত্ব খুঁজে পেতে চোখে চশমা লাগাতে হয়। মানচিত্রের ছোট্ট এই দেশটি তার অপরিসীম সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের কাছে এখনো স্বপ্নভূমি হয়ে আছে। মোঘল সম্রাট হুমায়ুন এই দেশ ঘুরে গিয়ে একে ‘স্বর্গের দরজা’ নামে আখ্যায়িত করেছিলেন। চীনের এক পর্যটক বলেছিলেন—‘এ দেশের মাটি এতটাই উর্বর যে এখানকার মানুষ না খেয়ে থাকতে পারে তা আমি বিশ্বাস করি না।’ সেই বাংলাদেশ আজ সুনির্দিষ্ট কিছু সমস্যার কারণে সবদিক থেকেই তার জৌলুস হারিয়েছে। পড়ে আছে অতীতের কিছু নমুনা। যা হীরের টুকরোর মতো চকচক করে আমাদের চোখে মুখে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটায়। বিচ্ছুরিত আলোর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার সমষ্টিকে পুঁজি করে এদেশকে আবার তার হারানো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। দেশটাকে মনের মতো করে সাজিয়ে তুলতে দেশের প্রতি একটুখানি ভালোবাসাই যথেষ্ট। দেশকে ভালোবাসলে দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে। আর দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকলে এমনিতেই দেশ গড়ার জন্য কাজ করতে ইচ্ছা করবে। আমাদের দেশের নেতৃত্ব পর্যায়ে যারা আছে তারা যদি সত্ হয়, দেশ গড়ার জন্য আন্তরিক হয়; দেশের সমস্যাগুলোকে একটা একটা করে খুঁজে বের করে সমাধানের চেষ্টা করে; তবে দেশ হয়ে উঠবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত, বেকারমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, গণতন্ত্রের সুষুম চর্চার প্লাটফর্ম। রাজনীতিতে ফিরে আসবে স্থিরতা, উন্নতি হবে আইন-শৃঙ্খলার। ধনী-গরীব, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আইন হবে সবার জন্য সমান। তবেই আমাদের প্রতিটা সকাল আবার সোনালি আলোয় ভরে উঠবে।