মেলান্দহের গান্ধী আশ্রমে মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘর

জামালপুরের মেলান্দহে ‘মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘর’ গড়ে ওঠেছে উপজেলার কাপাশহাটিয়া গ্রামের গান্ধী আশ্রমে। ১৯৩৪ সালে এর জন্ম। এর নেতৃত্বে ছিলেন মহাত্মা গান্ধী। ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের স্বাধীনতা শৃঙ্খল মোচন, স্বদেশের হিত ব্রতে মানবকল্যাণ, অহিংস প্রতিষ্ঠা, সত্যাগ্রহ আন্দোলনের পথ ধরে কৃষক নেতা মরহুম নাসিরউদ্দিন সরকার এটি প্রতিষ্ঠা করেন। নাসিরউদ্দিনের জ্যেষ্ঠ কন্যা বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী মরহুমা রাজিয়া খাতুন ছিলেন এর পরিচালক । তত্কালীন সময় গান্ধী আশ্রমের কার্যক্রম ছিল খাকি কাপড় বোনা, শিক্ষা, হস্ত-কারু শিল্প তৈরি, পাঠাগার, শরীর চর্চা, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিবিধ কর্মসূচি। পাকিস্তানি শ্বাসক চক্র ১৯৪৮ সালে কয়েকবার হামলা ও আক্রমণ চালিয়ে আশ্রমের বহু স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়। এরপর ২০০৭ সালের ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন উপলক্ষে জাতিসংঘ আহূত আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস উদযাপনের মধ্য দিয়ে পুনরায় গান্ধী আশ্রমের যাত্রা শুরু হয়। মানবকল্যাণে গান্ধী আশ্রমের শুভাধ্যায় ও নানা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গান্ধী আশ্রমের পাশেই গড়ে ওঠেছে আরেকটি প্রতিষ্ঠান ‘মুক্তি সংগ্রাম যাদুঘর’। জেলা পরিষদের প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সুদর্শন একটি অত্যাধুনিক দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। মরহুম নাসিরউদ্দিন সরকারের দৌহিত্র বর্তমান ঝাউগড়া ইউপি চেয়ারম্যান হিল্লোল সরকারের তত্ত্বাবধায়ক জানান, উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী-পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্বের সময় এ ঘরটি ব্যবহূত হয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন, শান্তি-সম্প্রীতি গড়ার লক্ষ্যে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, নারী অধিকার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রজন্মদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া। আত্মনির্ভরশীল হবার জন্য যুগোপযোগী অনেক কর্মকাণ্ড হাতে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ডিজিটাল প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় বেকার যুবক-যুবতীদের বিনামূল্যে কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। ট্রাস্টিবোর্ড এটি পরিচালনা করছেন। মেলান্দহ উপজেলার দক্ষিণে সরিষাবাড়ির উত্তরে এবং সদর উপজেলার পশ্চিমে সর্বশেষ গ্রাম কাপাশহাটিয়া। এই তিনটি উপজেলা সদর থেকে কাপাশহাটিয়া গ্রামের দূরত্ব প্রায় ১৫কি.মি.। আদিকালে বস্ত্র তৈরির চরকায় সুতো সংগ্রহের কাঁচামাল কার্পাস বৃক্ষের সমারোহ এবং কার্পাস তুলার বেচা-কেনার হাটও ছিল এখানে। ইতিমধ্যেই যারা মুক্তি সংগ্রাম যাদুঘরে আগমন করেছেন তারা হলেন:ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ড. খন্দকার শওকত হোসেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. রাধা চক্রবর্তী, ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী, ডেপুটি হাইকমিশনার সঞ্জয় ভট্টচার্য, ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ড. দীপক মণ্ডল, ঢাকা যাদুঘরের ট্রাস্টি তারিক আলী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল এনভারমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির (এনইডি) মি. স্যামসহ আরো অনেক গুণীজনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয়-আন্তর্জাতিক দিবসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চিত্র প্রদর্শনী নতুন দিগন্তের মাইল ফলক হিসেবে কাজ করছে এই মুক্তি সংগ্রাম যাদুঘর।