শীত আসলেও ভোলায় দেখা নেই খেজুর রসের

পৌষ এলেও ভোলায় শীতের মজাদার খাদ্য খেজুরের রসের দেখা নেই। গাছিদের এখন দুর্দিন চলছে । শীত মৌসুমে খেজুরের রস বিক্রি করে ভোলার বিভিন্ন উপজেলার কয়েক শত গাছি পুরো বছরের খাবার জোগাড় করেন । কিন্তু বিভিন্ন স্থানে ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য ব্যাপকভাবে খেজুর গাছ কাটার ফলে এখন রসের দেখা কমই মিলছে। তাই পৌষের সকালে দেখা মিলছে না ভাঁড় কাঁধে রস বিক্রেতাদের। ভোলা শহরে কাকডাকা ভোরে ভাঁড় করে ছোট হাড়ি ভর্তি তাজা খেজুরের রস নিয়ে হাঁক্ দিত রস বিক্রেতারা। এখন তাদের দেখা মিলছে না। আগে যে সকল গুড় ব্যবসায়ী খেজুরের রস থেকে গুড় বানিয়ে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতেন, রস স্বল্পতার কারণে তারা এখন বেছে নিচ্ছেন অন্য পেশা। অনেক চেষ্টার পর যে পরিমাণ সামান্য রস মেলে তাতে আগের মত স্বাদ ও গন্ধ নেই,আবার দাম অনেক চড়া। ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা গ্রামের গাছি রহিম কাজী জানায়, খেজুর গাছের চাহিদা ইট ভাটায় বেশি হওয়ায় গ্রামের লোকজন দেদারছে খেজুর গাছ বিক্রি করে দিচ্ছে। তবুও যে স্বল্প পরিমাণ গাছ আছে, তা থেকেই চলছে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। দৌলতখানের এক গুড় ব্যবসায়ী নুরুদ্দিন (৬০) জানান, আগে তারা এই মৌসুমে খেজুর রস থেকে প্রায় শতমণ গুড় তৈরি করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে সংসার চালাতেন। এখন গাছ কমে যাওয়ায় যে রস পাওয়া যায় তা দিয়ে পরিবারের চাহিদা মেটানোই কষ্টকর । এছাড়া গুড় তৈরি করতে যে পরিমাণ লাকড়ির দরকার হয় মণ প্রতি তার দামও বেশি হওয়ায় তাদের পোষায় না। আগে গাছিরা নিজেরাই রস বাড়ি বয়ে এনে দিয়ে যেত, আর এখন তাদের বাড়ি গিয়েও রস পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এখন জামাই আপ্যায়ন ও সামাজিক অনুষ্ঠানে রস পাওয়া যেন সোনার হরিণ। এভাবে খেজুর গাছ নিধন করা হলে আগামী ১০ বত্সরে খেজুরের রস হারিয়ে যাবে। এরকম পরিস্থিতিতে অনেক গাছি পেশা বদল করছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ খেজুর গাছ বৃদ্ধির জন্য চাষীদের উত্সাহিত করা উচিত। ভোলা শহরের প্রবীণ সাংবাদিক হাবিবুর রহমান জানান, দ্বীপাঞ্চল ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলে খেজুর রস একটি জনপ্রিয় মৌসুমি খাদ্য। চিতই আছে, চন্দ্রপুলি আছে, অন্যান্য পিঠা পুলিও আছে, কিন্তু রসে ভেজানো চিতই পিঠা, চই পিঠার স্বাদ ভোলাবাসী এখন আর তেমন পায় না। খেজুর গাছ নিধন বন্ধ এবং বেশি করে খেজুর গাছ লাগানো ও পরিচর্যাই এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারে। তিনি খেজুর গাছ লাগানোর প্রচারাভিযান বৃদ্ধির জন্য প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।