বিজয় দিনের আনন্দে মাতোয়ারা নগরী
প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৫
বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানী জুড়ে ছিল নানা আয়োজন। বিভিন্ন সংগঠন আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন করলো জাতির এই মহান অর্জনকে। বিজয়ের অনুষ্ঠানমালায় যোগ দিয়ে প্রতিটি কণ্ঠে উচ্চারিত হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি। বিজয়ের রঙে মেতে উঠেছিল সবাই। লাল-সবুজ শাড়ি, পাঞ্জাবি পরে রাঙিয়ে তুলেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ ীয় শহীদ মিনার, রবীন্দ সরোবরসহ অনুষ্ঠানস্থলগুলো।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট
কেন্দ ীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে চলছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উত্সব। রবিবার সকালে বিজয় দিবস উপলক্ষে সেখান থেকে বের করা হয় বিজয় শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন শিক্ষাবিদ শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জোটের সভাপতি নাসিরউদ্দীন ইউসুফ, সহ-সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার প্রমুখ। শোভাযাত্রা উদ্বোধনকালে শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেনঃ আশা করছি আসছে বিজয় দিবসের আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে।
বিজয়ে পার্বণে
উেস বাংলাদেশ আয়োজিত তিন দিনের বিজয়ে পার্বনে শীর্ষক অনুষ্ঠানের রবিবার ছিল দ্বিতীয় দিন। সকাল নয়টায় ৪১টি ঢাক-ঢোল নিয়ে একটি সুসজ্জিত বাদকদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিভ্রমণ করার মধ্য দিনের অনুষ্ঠানমালার সূচনা ঘটে। এদিন এর উদ্বোধন করেন উত্সব উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্বদ্যািলয়ের উপাচার্য আআমস আরেফিন সিদ্দিক। এছাড়া ছিল শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, শিশু-কিশোরদের মধ্যে বিজয় বাঁশী। ছিলো আলোচনা অনুষ্ঠান। এসব আয়োজনের ফাঁকে প্রদর্শিত হয় প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ নির্মিত ‘মুক্তির গান’ ও ‘মুক্তির কথা’। এছাড়া দিনভর চলতে থাকে ঢেঁকিতে চিড়া কুটা, খই ভাজা, তাঁতে কাপড় বুনা, কুমারের মাটির পাত্র ও নানা পদের পিঠা তৈরি, প্রদর্শনী ও বিপণন। দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে চাঁদের বুকে বিচরণ উপযোগী রোবট উদ্ভাবনের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ বিজ্ঞানীদল ‘চন্দ বট’। এর আগে আখড়া মঞ্চে পালাগান পরিবেশন করেন আব্দুল আউয়াল সরকার। দেশাত্মবোধক গান শোনান লোকশিল্পী সোহরাব দেওয়ান।
শিল্পকলা একাডেমী
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রবিবার সন্ধ্যায় একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে আলোচনাসভায় অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব সুরাইয়া বেগম, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নূহ-উল আলম লেনিন এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দে র অন্যতম সংগঠক আশফাকুর রহমান খান। সভাপতিত্ব করেন একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। আলোচনাপর্ব শেষে হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে ঢাকা সাংস্কৃতিক দল, সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, নজরুল সঙ্গীত শিল্পী পরিষদ ও গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত মানবাধিকার দিবস থেকে বিজয় দিবস শীর্ষক আয়োজনের রবিবার ছিলো শেষদিন। এদিন সকালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেয় নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুল, কল্পরেখা, ম্যাগনোলিয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও ইউসেপ স্কুলের শিক্ষার্থীরা। নৃত্য পরিবেশন করে ধ্রুপদ কলাকেন্দে র খুদে নৃত্যশিল্পীরা।
বিজয় মঞ্চ
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘শিখা চিরন্তন’ বিজয় মঞ্চেও রবিবার ছিল নানা আয়োজন। এদিন এ মঞ্চে একক কণ্ঠে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী তপন চৌধুরী, কিরণচন্দ রায় ও ক্লোজআপ তারকা লিজা। সম্মেলক সঙ্গীত পরিবেশন করে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলার মুখ ও বাংলা সংসদ। একক আবৃত্তি পরিবেশন করে বাকশিল্পী আহকামউল্লাহ্ ও শাহাদাত হোসেন নিপু। সবশেষে নাগরিক অমসম্বল নাট্য সম্প্রদায় আবদুল্লাহ আল মামুনের রচনা ও জামালউদ্দিনের নির্দেশনায় ‘বিবিসাব’ নাটক মঞ্চায়ন করে।
সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান শিখা চিরন্তন প্রাঙ্গণে এক পতাকা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১। অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ম হামিদ, স্বাগত বক্তব্য দেন ফোরামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হারুন হাবিব। অনুষ্ঠানে অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহ, বীর উত্তম এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল একে খন্দকার বীর উত্তম ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরে পাকসেনাদের আত্মসমর্পণের স্মৃতি বর্ণনা করেন।
ছায়ানটের বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম
ছায়ানট গতকাল বিজয় দিবস উপলক্ষে বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রবিবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ছায়ানট ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিল্পীরা গানে, কথায়, কবিতায়, স্মরণ করলেন মহান বিজয়, সুমহান আত্মত্যাগকে। প্রাণপ্রিয় এই দেশকে সামনে এগিয়ে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন তাদের আয়োজন দিয়ে।
কচি-কাঁচার মেলা
কচি-কাঁচার মেলার মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা হয়। প্রধান অতিথি বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম শিশুদের জন্য মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা বর্ণনা করেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেলার ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান ড. এ টি এম শামসুল হুদা, সহ-সভাপতি শিল্পী সৈয়দ আবুল বারক আলভী ও শিশু বক্তা এস এম সামিউল। সভাপতিত্ব করেন মেলার পরিচালক খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।
প্রেসক্লাবে ‘বিজয় পঙক্তিমালা’
বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বিজয় পঙতিমালা’ শিরোনামে ক্লাবের সদস্য কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠের আয়োজন করা হয়। কবি ও গীতিকার কেজি মোস্তফার সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সভাপতি কামালউদ্দিন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনক হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক নূরুল হাসান খান, কাদের গনি চৌধুরী, কোষাদক্ষ বদিউল আলম, সাংস্কৃতি ও শিশু শিক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ফরিদা ইয়াসমিন, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জহিরুল আলম, মাঈনুল আলমসহ সদস্যরা।
রমনা কালী মন্দিরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন
১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ রমনা কালী মন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রমে পাক হানাদার বাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালায়। শহীদ হয় বেশকিছু পরিবার। তাদের স্মৃতির উদ্দেশে রমনা কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা করা হয়।