বাংলাদেশের ক্ষমার দাবি উপেক্ষা করছে পাকিস্তান
প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৭
স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও গণহত্যা ও বর্বরতার জন্য পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। কিন্তু এ বিষয়টি বরাবরের মতোই উপেক্ষা করে এসেছে পাকিস্তান। সম্প্রতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খারের সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ দাবি আবারো তোলা হয়। তবে পাকিস্তান এ বিষয়ে উপেক্ষা করে আসছে। গতকাল শনিবার পাকিস্তানের দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা কখনোই এ দাবি থেকে সরে আসিনি। আমরা এ বিষয়ে ক্রমাগত চাপ দিতে থাকব। আশা করছি, এক পর্যায়ে পাকিস্তানের নীতি-নির্ধারকরা ক্ষমা চাইতে রাজি হবেন। শুধু কূটনীতিক পর্যায়ে নয় বাংলাদেশের ভেতরে বুদ্ধিজীবী শ্রেণিও দাবি জানিয়ে আসছেন। পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাইলেও বিভিন্ন সময় তারা এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে। ২০০২ সালে বাংলাদেশ সফরকালে পাকিস্তানের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়েছিলেন। পারভেজ মোশাররফের এ ইঙ্গিতকে বাংলাদেশ ভালো চোখে দেখলেও এখনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাচ্ছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের মতে, বাংলাদেশে আটকেপড়া পাকিস্তানিদের সঙ্গে এই ইস্যুটি সরাসরি সম্পৃক্ত। বর্তমানে দুই লাখেরও বেশি উর্দুভাষি বাংলাদেশের ১০০টির মতো উদ্বাস্তু শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্বাধীনতার পর থেকে তাদের অনেকেই পাকিস্তানে ফিরে যেতে চেয়েছেন। কিন্তু মাত্র অল্প কয়েকজন এ পর্যন্ত যেতে পেরেছেন। পাকিস্তানের ইতিবাচক পদক্ষেপের মাধ্যমে এ সমস্যাটি সমাধান করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। কিন্তু পাকিস্তান সরকার কী এর সমাধান চায়, সেটাই এখন প্রশ্ন। এদিকে, এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক ব্লগে মেডিক্যাল কলেজের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ৪১ বছর আগে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ। এখন ৪১ বছর পর যেন আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় একই ভাগ্য বরণ করতে যাচ্ছে পাকিস্তানের আরেকটি অংশ বেলুচিস্তান।
আবদুল মাজেদ নামের এই শিক্ষার্থী লিখেছেন, পূর্ব পাকিস্তান থেকে কেন্দ্রে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আসত। কিন্তু সেখানে উন্নয়ন ছিল সীমিত। প্রশাসন ও আমলাতন্ত্রে পূর্ব পাকিস্তানের অংশগ্রহণও ছিল হাতে গোনা। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরপরই ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে পূর্ব পাকিস্তানে চালানো হয় সামরিক অভিযান। ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অভ্যুদয় হয় স্বাধীন বাংলাদেশের।