আমি চাপাতি দিয়ে কোপাই রাজন ছুরি মারে :শাকিল
প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২০
বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত রফিকুল ইসলাম শাকিল জিজ্ঞাসাবাদে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবির) কর্মকর্তাদের জানিয়েছে, সে চাপাতি দিয়ে বিশ্বজিেক কুপিয়েছে এবং রাজন ছুরিকাঘাত করেছে। বাঁচার জন্য বিশ্বজিত্ অনেক অনুনয় করেছিলেন। কিন্তু কেউ সেদিকে কান দেয়নি।
গতকাল রবিবার শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আট দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ইন্সপেক্টর তাজুল ইসলাম আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। মহানগর হাকিম এরফান উল্লাহ আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেফতার মাহফুজুর রহমান নাহিদ, রাশেদুজ্জামান শাওন, সাইফুল ইসলাম, এইচএম কিবরিয়া ও কাইয়ুম মিয়া টিপুকে আট দিনের রিমান্ডে নিয়ে ডিবি কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। গতকাল তাদের রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়। শাওনকে সিলেট জাফলং সীমান্তে দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সহযোগিতা করায় ও শাওনকে আশ্রয় দেয়ার দায়ে গ্রেফতার সাংবাদিক উত্পল দাসের তিনদিনের রিমান্ডের গতকাল দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে।
‘শাকিলের পাপে বাপের মৃত্যু’ : গতকাল আদালতে শাকিলকে হাজির করার পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে শাকিল ফুপিয়ে কাঁদতে থাকে। শাকিলের কিছু বলার আছে কিনা জানতে চান আদালত। উত্তরে শাকিল মাথা নেড়ে আদালতকে জানান, কিছু বলতে চান না। তখন আদালত শাকিলকে বলেন, আপনি এখন কাঁদছেন কেন? আপনার পাপে আপনার বাবা মারা গেছেন। শাকিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাসের চতুর্থ ব্যাচের ছাত্র। বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার করেন। ৯ ডিসেম্বর অবরোধ চলাকালে পুরনো ঢাকায় লক্ষ্মীবাজার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে দোতলা ভবনে ইমাম ক্লিনিকে শাকিলসহ গ্রেফতারকৃত ছয় জন এবং পলাতক ইমদাদুল তাওসীন, রাজনসহ ৭ থেকে ৯ জনের একটি গ্রুপ বিশ্বজিেক নৃশংসভাবে হত্যা করেন। শাকিল চাপাতি দিয়ে বিশ্বজিেক এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। পিছন থেকে বিশ্বজিতেক ছুরি মেরেছে রাজন তালুকদার। গ্রেফতারকৃত অপর ৫ জন রড ও লাঠি দিয়ে পেটায় বিশ্বজিেক। বিশ্বজিতের মৃত্যু নিশ্চিত করে বীরদর্পে বের হয়ে আসে সে। এ সময় তার পরনে সাদা শার্ট ছিল। বুক খোলা ছিল। বিশ্বজিতের রক্তে শার্টটির কিছু অংশ লাল হয়ে যায়। পরে চাপাতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্টা দিকের ছোট দোকানের পাশে একটি বক্সে রেখে যায়। গত শনিবার সন্ধ্যায় সেই চাপাতিটি পুলিশ উদ্ধার করে। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। বাকি জড়িততের নাম ঠিকানা প্রকাশ করে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা বাবর তাকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য নেতাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তার কাজ হলো আশপাশের দোকান থেকে চাঁদাবাজি করে নেতাদের হাতে তুলে দেয়া।
ডিবির একাধিক টিম পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি দক্ষিণ) মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিশ্বজিত্ হত্যা মামলার ময়না তদন্তের রিপোর্টে গতকাল গোয়েন্দা কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে। এতে বিশ্বজিতের শরীরে কোপসহ বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।