ভিকারুন নিসার অধ্যক্ষকে হুমকি দিল ছাত্রলীগ নামধারীরা
প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২১
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জু আরা বেগমের কক্ষে ঢুকে একদল যুবক একটি তালিকা দিয়ে বলে, ‘এ তালিকা অনুযায়ী ছাত্রী ভর্তি করতে হবে। নইলে সবাইকে বের করে দিয়ে স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দেবো। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে লাভ নেই, আমরা যা বলি তা করি।’ গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর বেইলি রোডে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ক্যাম্পাসে অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে এভাবেই শাসিয়ে যায় ওই যুবকরা। এ সময় অধ্যক্ষের কক্ষে থাকা শিক্ষকদেরও লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
যুবকদের কেউ কেউ নিজেকে অভিভাবক ফোরামের নেতা বলে পরিচয় দেয়। কেউ কেউ দাবি করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এ ব্যাপারে রমনা থানায় ভিকারুননিসা নূনের শিক্ষকরা একটি জিডি করেছে।
গতকাল কক্ষে ঢুকে অধ্যক্ষকে শাসানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্রীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিষয়টি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকেও জানানো হয়। পুলিশ পৌঁছার আগেই হুমকি প্রদানকারীরা স্কুল ক্যাম্পাস ত্যাগ করে।
কলেজের কয়েকজন শিক্ষক বলেছেন, ছাত্রলীগ নামধারী কিংবা কমিটিতে ‘মাইম্যান’ হিসেবে অনুপ্রবেশকারীরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিলে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। এতে সরকারের জনসমর্থন কমবে না, বরং আরও বাড়বে।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ‘গতকাল বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষকরা বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় অনুমতি না নিয়ে অভিভাবক নামধারী আবদুর রহিম রানা ও মোশাররফের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতকারী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে। একটি তালিকা দিয়ে তারা দাবি করে, এ অনুযায়ী ছাত্রী ভর্তি করতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে তারা অধ্যক্ষকে এ স্কুলে প্রবেশ করতে দেবে না। শিক্ষকদের বের করে স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দেয়ারও হুমকি দেয় তারা। অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের আপত্তিকর ও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করে চরমভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য আজ সোমবার লটারির মাধ্যমে যে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে তা ভণ্ডুল করা। তাদের অধ্যক্ষ বলেন, নিয়মানুযায়ী ভর্তি করা হবে। এক বোন পড়লে সেক্ষেত্রে সরকার ১০ ভাগ ভর্তির সুযোগ রেখেছে। সেই অনুযায়ী ভর্তি করানো হবে।
ওই যুবকরা দাবি করে তাদের তালিকা অনুযায়ী যারা আবেদন করবে তাদের সকলকে ভর্তি করাতে হবে। তাদের তালিকাই নিয়ম। গত বছরও তারা একই কায়দায় ভর্তি বাণিজ্য করেছে। এ বছরও ভর্তি বাণিজ্যের প্রচেষ্টা শুরু করেছে। তাদের হাতে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।
গতকাল ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে গেলে অধ্যক্ষ মঞ্জু আরা বেগমসহ লাঞ্ছিত অন্য শিক্ষকরা হুমকি প্রদানকারীদের সম্পর্কে বিস্তারিত বলেন। তারা জানান, গত বছর ভর্তির সময় এই চক্রটি একই অবস্থা করেছিল। তারা একসঙ্গে ৩০ থেকে ৫০ জন আসে। তাদের কেউ কেউ নিজেকে অভিভাবক ফোরামের সদস্য, কেউ কেউ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী বলে পরিচয় দেয়। তাদের ক্রমাগত হুমকিতে অধ্যক্ষসহ শিক্ষকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। হুমকি প্রদানকারীদের অনেকের বাসা স্কুলের আশপাশে বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।
ছাত্রলীগ মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান রানা বলেন, ছাত্রলীগের কেউ এর সঙ্গে জড়িত নয়। আর কেউ যদি ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে তাহলে তাদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হবে।